দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবারের দুপুর। ফাঁকা রাস্তায় আচমকাই লোকজনের হই হট্টগোল। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে চলছে হাসি-মস্করা। ফটাফট মোবাইল ক্যামেরায় ছবি, ভিডিও তুলছেন জনা কয়েক যুবক। ভিড়ে সামিল মহিলারাও। হেসে গড়িয়ে পড়ছেন তাঁদের অনেকে। সব হাসি, কৌতুককে পিছনে ফেলে সকলের মাঝখান দিয়ে হেঁটে চলেছেন এক যুবতী। পরনে কুটোটিও নেই। সারা শরীরে মারধরের ছাপ স্পষ্ট, জমাট বেঁধে রয়েছে রক্ত।
রাজস্থানের চুরু জেলার বিদাসার এলাকায় এমন একটি ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও ভিডিওটি অনেকাংশেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এই ভিডিও শেয়ার যাতে বন্ধ হয় সেই ব্যাপারে সাইবার নিরাপত্তা বিভাগকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কর্তারা।
যুবতী চুরুর বাসিন্দা। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতেই সেদিন থানার পথ ধরেছিলেন তিনি। সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, যুবতীর অভিযোগ তাঁকে নানা কারণে নিত্যদিন বেধড়ক মারধর করেন তাঁর শাশুড়ি আর ননদ। স্বামী দিন মজুর। অসমে থাকেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাঁকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়। মারতে মারতে জামা কাপড় ছিঁড়ে দেন তাঁরা। শাশুড়ি আর ননদের সঙ্গে যোগ দেন শ্বশুরবাড়ির অন্য লোকজনেরাও। বহুদিন তাঁকে জামা কাপড় ছেঁড়ে অবস্থায় রাস্তায় বার করে দিয়েছিলেন তাঁরা।
গত রবিবারও একই ভাবে বিনা কারণে তাঁকে মারতে শুরু করেন শাশুড়ি। পরনের কাপড় ছিঁড়ে খুলে দেন ননদ। সেই অবস্থাতেই তিনি ছুটে চলে এসেছিলেন থানায়।
বিদাসার পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, থানায় পৌঁছনোর আগেই রাস্তায় যুবতীকে ঘিরে ধরে তামাশা করতে থাকেন এলাকার লোকজন। থানায় ঢোকার মুখেও তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন জনা কয়েক যুবক। মহিলার ভিডিও তোলা হয়। পুলিশ কর্তার কথায়, ‘‘বিধ্বস্ত অবস্থায় সাহায্যের জন্য থানায় ছুটে এসেছিলেন যুবতী। সারা শরীরে ছিল দগদগে ক্ষত চিহ্ন। অবাক লাগে শুধু ছেলেরা নয়, মহিলারাও তাঁকে এই অবস্থায় দেখে কটূক্তি করতে ছাড়েননি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন শুধু নয়, যাঁরা সেদিন তাঁর ভিডিও তুলেছিলেন সকলকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে।’’