রবিবার রাজ্য পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা, ভিড় সামলাতে শিয়ালদহ ডিভিশনে চলবে বাড়তি লোকাল ট্রেন।

শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 29 November 2025 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা (Written Examination) রবিবার, ৩০ নভেম্বর। সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের চাকরিপ্রার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রের পথে রওনা দেবেন। শহরতলির পরিবহণের অন্যতম ভরসা রেল (Railways), তাই বড় সিদ্ধান্ত নিল শিয়ালদহ ডিভিশন (Sealdah Division)।
শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রবিবারের জন্য আগেই যে সব ইএমইউ লোকাল (EMU Local Trains) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলি পুরোপুরি চালানো হবে। মূলত পরীক্ষার্থীদের যাতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, সেই লক্ষ্যেই।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত সমস্ত বন্ধ ঘোষিত EMU লোকাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই ৬ ঘণ্টার মধ্যেই শহরতলি থেকে শিয়ালদহে বা শিয়ালদহ থেকে শহরতলির বিভিন্ন শাখায় যাতায়াত করবেন যারা, তাঁদের কোনও অসুবিধা হবে না।
এদিকে, পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। কারণ, এ বছর ১১ হাজারেরও বেশি শূন্যপদ (Vacancies) রয়েছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও বিপুল। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্র। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই রাস্তায় ভিড় বাড়বে। পাশাপাশি ৩০ তারিখ রয়েছে কমন অ্যাডমিশন টেস্ট বা ২০২৫-এর ক্যাট। ফলে যারা এই পরীক্ষা দিতে আসবেন, তাদেরও ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক থাকায় সুবিধা হবে।
এ বছর পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষার নিয়মে হয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বদল। যেমন- সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic Volunteers), ভিলেজ পুলিশ (Village Police) এবং অন্যান্য সহযোগী পুলিশকর্মীরাও এবার কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে পারবেন। সংরক্ষিত আসনের নিয়ম পূর্বের মতোই বহাল থাকবে। পরীক্ষার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তাই তাঁদের যাতায়াতে কোনও সমস্যার সৃষ্টি হলে সামলানো কঠিন হয়ে যেত।
শিয়ালদহ ডিভিশনের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেয়েছেন নিত্যযাত্রী থেকে পরীক্ষার্থী- সবাই। সাধারণত রবিবার রেললাইন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance Work), সিগন্যাল ওভারহেড ইকুইপমেন্ট (OHE Maintenance)-এর কাজ হয়ে থাকে। সেই কারণেই অনেক সময় লোকাল ট্রেন বাতিল থাকে। কিন্তু পরীক্ষার গুরুত্ব বুঝে রেল এবার সব বাতিল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে।
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ বলছেন, 'রবিবার ট্রেন না থাকলে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতেই দেরি হয়ে যেত। শিয়ালদহ রেল যে সব লোকাল চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এতে অনেকটাই নিশ্চিন্ত হলাম।'
রেলও জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে আরও ট্রেন চালানো যায় কি না, তাও পরিস্থিতি দেখে বিবেচনা করা হবে।