দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে চার উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ধর্ষণ করে। গত মঙ্গলবার দিল্লির হাসপাতালে ২০ বছরের ওই তরুণী মারা যান। পুলিশ রাতের বেলায় তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার মৃতের বাড়িতে যাবেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও অপর কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা।
ধর্ষিতার পরিবারের দাবি, তাঁরা দলিত হওয়ার জন্যই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছিল। গণধর্ষণের পরে তরুণীর ওপরে বীভৎস অত্যাচার করে অপরাধীরা। তাঁর শরীরে নানা জায়গায় হাড় ভেঙে যায়। সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ঘাড়ে গভীর ক্ষত থাকার জন্য তাঁর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, তরুণীর জিভেও ক্ষত ছিল। চার অপরাধী যখন তাঁকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজের জিভ কামড়ে ফেলেন।
অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জোর করে তাঁর দেহ আত্মীয়দের থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। পরিবারকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী মিলে রাত আড়াইটেয় তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দেন।
বুধবার সকালেই এই বিষয়ে টুইট করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। টুইট করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ চেয়েছেন কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াও।
একগুচ্ছ টুইট করে নিজের দাবি তুলে ধরেন প্রিয়ঙ্কা। তিনি বলেন, “আমি হাথরাসের তরুণীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম। এমন সময় তাঁকে জানানো হয় তাঁর মেয়ে মারা গিয়েছেন। আমি একজন পিতার কান্না শুনেছি।”
আরও একটি টুইটে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বে থাকা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেন, “উনি আমাকে বলেছেন, উনি কেবলমাত্র সন্তানের জন্য ন্যায়বিচার চান। গত রাতে তাঁকে নিজের মেয়ের দেহ শেষবার বাড়ি নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করার সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি। ধর্ষিতা তরুণী ও তাঁর পরিবারকে রক্ষা করার বদলে আপনার সরকার মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবারের শেষ অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকার কোনও অধিকার নেই যোগীর।”
একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ২০ বছরের ওই তরুণীর বাবা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি একজন আত্মীয়কে ফোনটি দিয়ে দেন। প্রিয়ঙ্কাকে বলতে শোনা যায়, তিনি তরুণীর দেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন কিনা। পরিবার কী চায় সেটাও জানতে চান প্রিয়ঙ্কা। তাতে তরুণীর আত্মীয় বলেন, “আমরা ন্যায় চাই। আমরা চাই অপরাধীদের ফাঁসি হোক।”