হান্দওয়ারায় শহিদ নায়েক রাজেশ কুমারের পরিবারকে দশ লক্ষ টাকা ও সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্রর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হান্দওয়ারা এনকাউন্টারে লস্কর জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছেন নায়েক রাজেশ কুমার। কর্নেল আশুতোষ শর্মার নেতৃত্বে যে পাঁচ জওয়ান চাঙ্গিমুল্লার ঘাঁটিতে জঙ্গিদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন রাষ্ট্রীয়
শেষ আপডেট: 3 May 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হান্দওয়ারা এনকাউন্টারে লস্কর জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছেন নায়েক রাজেশ কুমার। কর্নেল আশুতোষ শর্মার নেতৃত্বে যে পাঁচ জওয়ান চাঙ্গিমুল্লার ঘাঁটিতে জঙ্গিদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ২১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ান নায়েক রাজেশও। পঞ্জাবের বাসিন্দা শহিদ জওয়ানের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ও পরিবারের যোগ্য একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং।
পাঞ্জাবের মনসা জেলার রাজরানা গ্রামের বাসিন্দা শহিদ রাজেশ। ছেলের মৃত্যুর খবরে পরিবারে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। চোখের জল বাঁধ মানছে না বৃদ্ধ মা, বাবার। “বীর সেনা ছিলেন রাজেশ কুমার, যেমন ভাল মানুষ, তেমনই সাহসী, ডাকাবুকো। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না কখনও,” জানিয়েছে শহিদ জওয়ানের শোকস্তব্ধ পরিবার।
https://twitter.com/capt_amarinder/status/1256854428000239616
রবিবার সন্ধের পরেই নায়েক রাজেশের শহিদ হওয়ার খবর এসে পৌঁছয় শার্দুলগড় তেহসিলের রাজরানা গ্রামের ছোট্ট বাড়িতে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং বলেছেন, বীর শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁর পরিবারকে দশ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবারের যোগ্য একজনকে সরকারি চাকরিও দেওয়া হবে। হান্দওয়ারায় এই পাঁচ জওয়ানের মৃত্যু খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা, গোটা দেশ মর্মাহত।
রবিবার কুপওয়ারার হান্দওয়ারার এনকাউন্টারে দুই জঙ্গিকে খতম করে শহিদ হয়েছেন ২১ নম্বর রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কর্নেল আশুতোষ শর্মা। হান্দওয়ারা এনকাউন্টারে শহিদ হয়েছেন রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের আরও তিন জওয়ান ও জম্মু-কাশ্মীরের এক পুলিশ কর্মী। নদার্ন কম্যান্ড জানিয়েছে, শহিদ জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন মেজর অনুজ সুদ, নায়েক রাজেশ, ল্যান্স নায়েক দীনেশ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাব-ইনস্পেকটর শাকিল কোয়াজি।
হান্দওয়ারার চাঙ্গিমুল্লা ঘাঁটিতে লস্কর জঙ্গিরা কয়েকজন স্থানীয়কে বন্দি করে রেখেছে এমন খবর পেয়েই শনিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের বাহিনীকে নিয়ে সেই এলাকা ঘিরে ফেলেন কর্নেল আশুতোষ। রাজওয়ার জঙ্গলে জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। কিন্তু সেখানে জঙ্গিদের হদিশ পাওয়া যায়নি। পরে গোপন সূত্রে বাহিনী খবর পায়, চাঙ্গিমুল্লাতেই একটি বাড়িতে কয়েকজনকে বন্দি করে রেখেছে জঙ্গিরা। ওই জঙ্গিদের মধ্যে লস্কর কম্যান্ডার হায়দারও আছে বলে খবর মেলে। ২০১৭ সালে পাকিস্তান থেকে উপত্যকায় এসে ঘাঁটি গাড়ে এই হায়দার। উত্তর কাশ্মীরের একাধিক নাশকতায় নাম ছিল এই লস্কর কম্যান্ডারের। প্রতিবারই সেনার হাত গলে পালাতে সক্ষম হয়েছে এই লস্কর জঙ্গি, কিন্তু এবার হায়দারকে কব্জা করতে লক্ষ্য স্থির করেই রেখেছিলেন জওয়ানরা।
চাঙ্গিমুল্লার যে বাড়িটাতে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছিল সেই বাড়ি প্রথমে ঘিরে ফেলা হয়। সেনার উপস্থিতি টের পেয়েই গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় সেনাবাহিনীও। গুলির লড়াই চলে কয়েক ঘণ্টা। সেই সময় কর্নেল আশুতোষ ঠিক করেন কয়েকজনকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে জঙ্গিদের কব্জা করবেন তিনি। সেই সময় বাইরে থেকে তাদের গুলির লড়াইতে ব্যস্ত রাখবে সেনাবাহিনী। মেজর অনুজ সুদ, নায়েক রাজেশ, ল্যান্স নায়েক দীনেশ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অফিসার শাকিলকে নিয়ে নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। এরপরে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের সাড়া না মেলায় বাড়ি বাইরে থেকে গুলি ছোড়া আরও বাড়িয়ে দেয় সেনাবাহিনী। ভোরের দিকে দুই জঙ্গির মৃত্যু নিশ্চিত হতেই বাকিরা ওই বাড়িটিতে প্রবেশ করেন। তখনই কর্নেল-সহ পাঁচ জনের দেহ উদ্ধার হয়। নিকেশ হওয়া দুই জঙ্গির মধ্যে একজন লস্কর কম্যান্ডার হায়দার সেটা নিশ্চিত করেছে নর্দার্ন কম্যান্ড।