দ্য ওয়াল ব্যুরো : জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক নিজের বক্তব্যে অনড়। সরকার গড়ার জন্য রাজ্যে বিধায়ক কেনাবেচা হচ্ছিল। তাই তিনি বাধ্য হয়ে বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। অন্যদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা পালটা বলেছেন, বিধায়ক কেনাবেচার প্রমাণ দিন। এই চাপান-উতোরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতি।
রাজ্যপাল বলেন, বিধানসভা ভেঙে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত নয়। সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি খবর পাচ্ছিলাম, যে দু’টি জোট সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে, তারা বিধায়ক কেনাবেচায় যুক্ত। পরিস্থিতি খুব খারাপ। কিন্তু এখন জঙ্গিদের অনেকাংশে দমন করা গিয়েছে। জঙ্গি তৎপরতা রাজ্যের মাত্র দেড়খানা জেলায় সীমাবদ্ধ। নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ করে পাথর ছোঁড়াও বন্ধ হয়েছে। কিছুদিন আগে রাজ্যে পুরসভা ভোটও করানো গিয়েছে নির্বিঘ্নে। এই অবস্থায় যদি সরকার গঠন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, তাহলে রাজ্যের পক্ষে খারাপ হবে। কারণ, এখন কেউই বিধানসভায় গরিষ্ঠতা প্রমাণ করার মতো অবস্থায় নেই।
রাজ্যপালকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ওমর আবদুল্লা বলেছেন, তাঁকে প্রমাণ করতে হবে কাউকে টাকা দেওয়া হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, আমাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। রাজ্যপাল অভিযোগ করছেন, টাকার বিনিময়ে এমএলএ কেনা হয়েছে। তাঁকে রাজ্যের মানুষের কাছে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। আমি তাঁর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, দয়া করে বলুন, কে টাকা দিয়েছে? কাকে টাকা দিয়েছে?
রাজ্যপালের অভিযোগ, এমন দলগুলি জোট বেঁধেছে যারা বহুকাল ধরে একে অপরের শত্রু। এই ধরণের জোট কোনও স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে পারে না। এক্ষেত্রে তিনি ন্যাশনাল কনফারেন্সের সঙ্গে পিডিপি-র জোটের কথা বলতে চেয়েছেন।
ন্যাশনাল কনফারেন্সের তরফে ওমর আবদুল্লা এই অভিযোগের জবাব দিয়ে বলেন, আমরা জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের স্বার্থে বিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। পিডিপি থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে বলেছিল, তাদের যেন সমর্থন করি। আমি বললাম, দলের সঙ্গে আলোচনা না করে কোনও কথা দিতে পারি না। আমি বলে দিয়েছিলাম, জোট সরকার ক্ষমতায় এলেও মুখ্যমন্ত্রী হব না।
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি বলেন, বুধবার রাজ্যপালের সঙ্গে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রাজভবনে কেউ ফোন ধরেনি। তিনি রাজভবনে ফ্যাক্স করে সরকার গড়ার দাবি জানাতে চেষ্টা করেন। ফ্যাক্স মেশিনও নাকি খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে রাজ্যপাল ফ্যাক্স করেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
রাজ্যপাল এই অভিযোগের জবাবে বলেন, বুধবার ছিল ইদ। সরকারি কর্মচারীদের ছুটির দিন। রাজভবনে কেউ ছিল না। এমনকী আমাকে খাবার দেওয়ার মতোও কেউ ছিল না। সেজন্য কেউ ফোন ধরতে পারেনি। তাছাড়া আমি মেহবুবার ফ্যাক্স পেলেও একই সিদ্ধান্ত নিতাম। দলত্যাগের ওপরে নির্ভর করে কোনও সরকার তৈরি হোক আমি চাই না।