দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার বিহারে তাঁর প্রথম নির্বাচনী সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোভিড কালে এই প্রথম জন-মঞ্চে তিনি। সেই সভা থেকে যেমন জোট শরিক নীতীশ কুমারের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী তেমনই প্রশ্ন করলেন, বিহারের মানুষ কি ফের প্রস্তর যুগে ফেরত যেতে চায়?
প্রস্তর যুগ কেন?
পিছিয়ে পড়া মানুষের সামাজিক ক্ষমতায়ণে ব্রতী ছিলেন লালু প্রসাদ। অথচ বিহারে তাঁর জমানায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে রকম ছিল তাতে অনেকেই জঙ্গলরাজ বলে সমালোচনা করতেন। বিহারে পরিকাঠামো উন্নয়নও লালু জমানায় বিশেষ হয়নি। এদিন সে প্রসঙ্গেই বিরোধী মহাজোটকে খোঁচা মারতে চান প্রধানমন্ত্রী। বিহারে বিরোধী মহাজোটে লালু প্রসাদের আরজেডি-র সঙ্গে রয়েছে কংগ্রেস। বক্তৃতায় তাদেরও খোঁচা দিতে চেয়ে মোদী বলেন, বিহারে এখন যাঁরা ভোট চাইছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই কাশ্মীরে ৩৭০ ফেরানোর দাবি তুলেছিলেন। বুঝেই দেখুন তা হলে!
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর জন্যই অতিমহামারীর মধ্যে অনেকের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। তিনি আগেই তৎপর না হলে, 'অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতি' হত।
মোদীর কথায়, "বিহার সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নিত, তাহলে অতিমহামারীতে আরও অনেকে মারা যেতেন। কিন্তু এখন বিহার কোভিডের মোকাবিলা করার পাশাপাশি গণতন্ত্রের উৎসব করছে।" বিরোধী রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নীতীশ কুমার ক্ষমতায় আসার আগে বিহারে ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধ হত। তাঁর কথায়, "যারা একসময় বিহারকে শাসন করেছে, তারা ফের এই উন্নয়নশীল রাজ্যটি দখল করতে চায়। কিন্তু মানুষের ভোলা উচিত নয়, কাদের জন্য বিহার পশ্চাৎপদ রাজ্য হয়ে উঠেছিল।"
করোনা অতিমহামারীর মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে সম্প্রতি অনেকে নীতীশের সমালোচনা করেছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, বিহার সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের কষ্ট কমানোর জন্য কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী এদিন কার্যত এই দু'টি অভিযোগের জবাব দেন। তিনি বলেন, "একসময় গরিবদের জন্য যে টাকা আসত, তা নয়ছয় হত। কিন্তু বর্তমান সরকার অতিমহামারীর মধ্যে গরিবদের বিনা পয়সায় খাবার দিয়েছে।"
গত কয়েকদিনে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের সভায় বড় সংখ্যক মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। মোদী এদিন তেজস্বীর নাম না করে বলেন, অনেকে একটা ভুল ধারণা ছড়াতে চাইছেন যে, রাজ্যে নতুন শক্তির অভ্যুদয় ঘটেছে। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, এনডিএ-ই ক্ষমতায় ফিরছে।
অন্য প্রসঙ্গে মোদী বলেন, "গালওয়ান উপত্যকায় বিহারের জওয়ানরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। পুলওয়ামাতেও বিহারের অনেক জওয়ান প্রাণ দিয়েছিলেন। আমরা তাঁদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।"
বিহারে এ বার ভোট গ্রহণ হবে ৩ দফায়। প্রথম দফায় ২৮ অক্টোবর ১৬ টি জেলার ৭১ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। পরের দফায় ৩ নভেম্বর ভোট হবে ৯৪ টি আসনে। তৃতীয় দফায় ৭ নভেম্বর ১৫ টি জেলার ৭৮টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটের ফল ঘোষণা হবে ১০ নভেম্বর। প্রসঙ্গত, বিহার বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ২৯ নভেম্বর।
অনেকেই মনে করেছিলেন, ভাইরাসের কারণে পিছিয়ে যাবে ভোট। কিন্তু তা হচ্ছে না। ফলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান বড় কোনও অঘটন.না ঘটলে একুশে নির্ধারিত সময়েই হবে বাংলার ভোট। সেক্ষেত্রে আর মাত্র ছ'মাস বাকি থাকবে বাংলায় ভোট হতে।