দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমহামারীর মোকাবিলায় গত মার্চ মাসে তৈরি হয় পিএম কেয়ারস ফান্ড। ওই তহবিল নিয়ে ইতিমধ্যে নানা প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অফিসের এক অফিসার জানালেন, ওই তহবিল তৈরি হওয়ার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে তাতে দান করেছিলেন ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।
ওই অফিসার বলেন, "প্রধানমন্ত্রী আগেও বহু ক্ষেত্রে দান করেছেন। শিশুকন্যাদের কল্যাণে, গঙ্গা নির্মল করার প্রকল্পে এবং পিছিয়ে পড়া মানুষজনের প্রয়োজনে অতীতে তিনি অনুদান দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত তিনি যে অর্থ দান করেছেন, তার পরিমাণ ১০৩ কোটি টাকার বেশি।"
গত বছর উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলায় সাফাইকর্মীদের কল্যাণে মোদী দান করেন ২১ লক্ষ টাকা। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার তাঁকে সিওল পিস প্রাইজ দিয়েছিল। পুরস্কারের ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা তিনি গঙ্গা নির্মল প্রকল্পে দান করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া সামগ্রীগুলি নিলামে চড়িয়ে পাওয়া গিয়েছিল ৮ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। ২০১৫ সালে সেই অর্থ তিনি নমামি গঙ্গে মিশনে দান করেন।
গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় মোদী নিজের জমানো টাকা থেকে রাজ্য সরকারের কর্মীদের শিশুকন্যাদের শিক্ষার জন্য দান করেছিলেন ২১ লক্ষ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি যে উপহার পেয়েছিলেন, সেগুলি নিলামে বিক্রি করে তিনি সংগ্রহ করেন ৮৯ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা। সেই টাকা দান করেন কন্যা কলাবনি ফান্ডে।
বুধবার জানা যায়, গত ২৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে পিএম কেয়ার ফান্ডে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। সরকারি এক অডিট রিপোর্ট থেকে একথা জানা গিয়েছে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, দেশের মধ্যে থেকে অনুদানকারীরা দিয়েছেন ৩ হাজার ৭৫ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। বিদেশ থেকে অনুদান এসেছে ৩৯ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা।
যাঁরা ওই তহবিলে টাকা দিয়েছেন, তাঁদের পরিচয় গোপন রাখছে সরকার। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম টুইট করে প্রশ্ন তুলেছেন, “যে দয়ালু ব্যক্তিরা এত টাকা দান করেছেন, তাঁদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? যে কোনও এনজিও-কে কেউ যদি নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি টাকা দেয়, তাহলে তার নাম প্রকাশ করতে হয়। তাহলে পিএম কেয়ারকে দাতাদের নাম জানাতে বলা হবে না কেন?”
পরে চিদম্বরম বলেন, “যাঁরা অনুদান পাচ্ছেন, তাঁদের নাম জানা যাচ্ছে। যে সংস্থাকে দান করা হচ্ছে, তার ট্রাস্টিদের নাম জানা যাচ্ছে। কিন্তু যাঁরা দান করছেন, তাঁদের নাম জানানো হচ্ছে না কেন?”
এরপরে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, দাতাদের তালিকায় আছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।