দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার রাতে লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিল। মঙ্গলবার সকালেই তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন সদ্য জেল থেকে মুক্তি পাওয়া কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিদম্বরম বলেছেন, ওই বিল সংবিধান বিরোধী। বিজেপি মানুষের আশা-আকাঙ্খাকে পদদলিত করছে। গত সাধারণ নির্বাচনের ফল নিয়েও তিনি আক্ষেপ করেছেন। তাঁর কথায়, 'একটি দলকে ব্যাপক গরিষ্ঠতা দেওয়ার মূল্য দিতে হচ্ছে।'
https://twitter.com/PChidambaram_IN/status/1204239583849771011
প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিলে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে পালিয়ে আসেন, তবে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি যাঁরা এদেশে এসেছেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
সোমবার বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে বিতর্কের পরে লোকসভায় পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিল। তার পক্ষে ভোট পড়েছে ৩১১ টি। বিপক্ষে পড়েছে ৮০ টি। বিরোধীদের বক্তব্য, ওই বিলে সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, আইনের সামনে সকলেই সমান।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে উত্তর-পূর্ব ভারত। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ডাকে মঙ্গলবার অসমে পালিত হচ্ছে ১১ ঘণ্টার বন্ধ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এমনকি বিজেপির সহযোগী দলগুলির সাংসদরাও ওই বিলের বিরোধিতা করেছেন।
লোকসভায় পাশ হওয়ার পরে ওই বিল পেশ করা হবে রাজ্যসভায়। কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ জানান, রাজ্যসভায় পাশ হলে তাঁরা ওই বিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন। চিদম্বরমও টুইটে তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী" বিল অসাংবিধানিক। সংসদে যদি ওই বিল পাশ হয়, তাহলে লড়াই হবে সুপ্রিম কোর্টে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা চাইছেন, আইনজীবী ও বিচারকরা তাঁদের কাজ করে দিন।"