
শেষ আপডেট: 4 December 2023 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বোলপুর: এবারও হচ্ছে না শান্তিনিকেতনে পৌষমেলা৷ সোমবার দীর্ঘ বৈঠকের পর যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে ছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট৷ সময়ের অভাব সহ অপরিচ্ছন্ন জলাশয়, মেলার স্টল বুকিংয়ের সফটওয়্যার বিকল এবং একাধিক কারণে এবারও পৌষমেলা বাতিল করে দেওয়া হল৷ আর এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মেলা সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়। তাতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সঞ্জয় কুমার মল্লিক সহ কর্মসমিতির সদস্যরা। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক অনিল কোনার, সদস্যা সবুজকলি সেন ও কালিকারঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।
দীর্ঘ বৈঠকের পর যৌথ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল এবারও হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। কারণ হিসাবে বলা হয়, ২৩ ডিসেম্বর মেলা হয়। তাই এত বড় মেলার আয়োজন করার জন্য হাতে সময় কম৷ মেলা করতে জলের প্রয়োজন, জলাশয়গুলি সংস্কার করা হয়নি৷ এছাড়া, মেলার প্লট বুকিংয়ের জন্য যে সফটওয়্যার রয়েছে, তা বিকল। তাই এবছর মেলার আয়োজন করা সম্ভব নয়৷ বিশ্বভারতীর অভ্যন্তরীণ পৌষ উৎসব পালন করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০১৯ সালে শেষ বার শান্তিনিকেতনে পূর্বপল্লীর মাঠে আয়োজন হয়েছিল মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত পৌষমেলা৷ মাঝে কেটে গিয়েছে তিন বছর। কোভিডের ত্রাস পেরিয়ে গেলেও শান্তিনিকেতনে আয়োজিত হয়নি পৌষমেলা। এবার ২০২৩ সালে বিশ্বভারতী ফের আয়েজন করতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। শুক্রবার এই খবর আসতে শান্তিনিকেতনবাসীর মধ্যে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু, ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়।
২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতির জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল মেলা। তবে এরপর থেকেই তৎকালীন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে শুরু হয় রাজ্য সরকারের সংঘাত। এমনকী সংঘাত এমন পর্যায় পৌঁছায় যে তাঁর একাধিক সিদ্ধান্তে সরব হয় পড়ুয়া, আশ্রমিক, প্রাক্তনীরাও। ২০২১ ও ২০২২ সালে পূর্বপল্লীর মাঠে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী পৌষমেলা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ । যা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে সর্বত্র। তবে বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ ও বোলপুর পৌরসভা এই দুই বছর ডাকবাংলো মাঠে বিকল্প মেলার আয়োজন করেছিল৷
গত ৮ নভেম্বর উপাচার্য হিসাবে মেয়াদ শেষ হয় বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর৷ নতুন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হন সঞ্জয় কুমার মল্লিক। তাই এবার ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা হবে, এমনটাই আশা ছিল বোলপুর-শান্তিনিকেতনবাসীর৷ মেলার আয়োজন করার জন্য বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতি থেকে শুরু করে পড়ুয়া, শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট, বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ উপাচার্যকে ডেপুটেশন দিয়েছিল। শেষপর্যন্ত দেখা গেল সেই সময় অভাব এবং পরিকাঠামোর সমস্যায় এবছরও থমকে গেল মেলা। যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।