
শেষ আপডেট: 15 November 2023 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: যে দুটি বাইকে আততায়ীরা এসেছিল, তার একটিতে মসিবুর রহমান লস্করের নাম লেখা। কে এই মসিবুর, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এই মোটরবাইকটিকে। পাশাপাশি নাসির আর বড়ভাই কি একই লোক? নাকি আলাদা? এই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তাহলেই জয়নগরের খুনের কিনারা সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন পুলিশকর্তারা। ধৃত শাহারুলকে জেরা করেই সামনে এসেছে বড়ভাই নাসিরের নাম। কিন্তু তারা একই লোক কিনা তা এখনও অজানা।
মঙ্গলবারই আদালতের পথে ধৃত শাহরুল দাবি করেছিল, একটি কাজের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল নাসির নামে একজন। টাকাপয়সা নিয়ে কথা এগোনোর পর তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্করের বাড়ির কাছাকাছি একজনের বাড়িতে এনে তাকে চারদিন ধরে রেখে দিয়েছিল। সইফুদ্দিনের গতিবিধির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছিল। এই কাজের জন্য এক লক্ষ টাকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। শাহরুল জানায়, এই কাজটা করলেও খুন সে করেনি। পুলিশের দাবি, জেরাতেও একই কথা বলেছে শাহরুল। তাই এই নাসির আর বড়ভাই একই লোক কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানতে পেরেছে নাসিরের বাড়ি উস্তির সংগ্রামপুরে। আততায়ীরা বাইরের লোক বলে প্রথম থেকে যে দাবি উঠছিল, এই অনুমান সেটাই প্রমাণ করছে। বারুইপুর (পূর্ব) কেন্দ্রের বিধায়ক বিভাস সর্দারের অভিযোগ করেন, তৃণমূলের দখলে থাকা একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের কব্জায় আনতে চাইছে সিপিএম। তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সইফুদ্দিন। সেই কারণেই সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় ও সুজন চক্রবর্তীরা লোক লাগিয়ে সইফুদ্দিনকে খুন করিয়েছেন। বাইরে থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল আততায়ীদের।
মঙ্গলবারই দলুয়াখাঁকি গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয় সিপিএম নেতৃত্বকে। তেতে ওঠে এলাকা। বুধবার ফের সিপিএম নেতারা গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করবেন বলে খবর। জোড়া খুনের পর ৪৮ ঘণ্টা পেরোনোর পর এখনও থমথমে জয়নগরের দলুয়াখাঁকি গ্রাম। তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন খুনের পর গণরোষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একজন পুলিশের হেফাজতে। বাকি তিনজন কোথায়, তা নিয়ে তোলপাড় জয়নগর।