.webp)
শেষ আপডেট: 15 November 2023 21:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪৮ ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে, পুলিশি প্রহরায় গ্রামে ফিরেছেন, ঘরে নয়। কারণ, ঘরটাই যে নেই! সোমবারের তাণ্ডবে ঘরটা কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত! ইতি উতি পড়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র।
হালিমা বিবির গায়ে তিনদিনের বাসী জামাকাপড়! সঙ্গী বলতে ত্রাণ সামগ্রী। বলছিলেন, “খোলা আকাশের নীচে রাত কাটিয়ে দিতে পারব। পুলিশও রয়েছে। তবু ভয় করছে, আবার ওরা আসবে না তো! আবার হামলা...।”
আতঙ্কে গলার স্বর বুজে যায় হালিমা বিবির। অকুস্থল জয়নগরের দলুয়াখাঁকি। বিদ্যুৎহীন গোটা গ্রাম। ইতি উতি জ্বলছে হ্যারিকেন। সঙ্গী মোবাইলের টর্চও। দু’দিন পর প্রশাসনের আশ্বাসে গ্রামে ফিরেছেন ঘরছাড়া বাসিন্দারা। সূর্য ডোবার পর থেকে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অন্ধকার। সেই সঙ্গে আতঙ্কও।
ঘটনার সূত্রপাত, সোমবার কাকভোরে নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে খুন হন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সইফুদ্দিন লস্কর। একেবারে ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে খুন করা হয় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সইফুদ্দিকে। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এক দুষ্কৃতীর।
এরপরই ঘটনাস্থল থেকে ৪ কিমি দূরের দলুয়াখাঁকি গ্রামে দিনভর চলে তাণ্ডব। একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরানো হয়। চলে মারধর, লুটপাট। গ্রামবাসীদের চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বসতবাড়ি, গাছপালা সহ সারা বছরের গোলা ভরা ধানও।
প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কে বাড়ির পুরুষদের সঙ্গে এক কাপড়ে শিশুদের নিয়ে গ্রাম ছেড়েছিলেন মহিলারা। ঘটনার অভিঘাতে এক লহমায় ফিরে এসেছিল গত বছরের বগটুই কাণ্ডের স্মৃতি।
অবশেষে বুধবার দুপুরে প্রশাসনের আশ্বাসে গ্রামে ফিরেছেন তাঁরা। তবু আতঙ্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বরং রাত যত ঘনাচ্ছে ততই যেন বাড়ছে আতঙ্কের আবহ। গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, সোমবার পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছিল। পুলিশ থেকেও কোনও লাভ হয়নি।
যদিও বারুইপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অতীশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত গ্রামে পুলিশ পিকেট রাখা হচ্ছে।