
শেষ আপডেট: 15 November 2023 20:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রমশ জটিল হচ্ছে জয়নগরে তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্করের মৃত্যুর রহস্য। ইতিমধ্যে ধৃত শাহরুল শেখের বয়ানে উঠে এসেছে নাসিরের নাম। আর এই নাসিরই জয়নগরকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বলে মনে করছে পুলিশ। কারণ পুলিশি জেরায় শাহরুল দাবি করেছেন, নাসিরই সইফুদ্দিনকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাথমিকভাবে তদন্তে নেমে নাসিরের বিষয়ে তেমন কোনও তথ্য পাচ্ছিল না পুলিশ। অবশেষে জয়নগরকাণ্ডের ‘মূল মাথা’ নাসির আদতে কে, সেই তথ্য মিলেছে বলেই পুলিশ সূত্রের খবর।
বুধবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাসিরের পুরো নাম নাসির হালদার। মন্দিরবাজার থানার টেকপাঁজা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। মূলত কলকাতায় পুরনো জিনিসপত্র কেনা-বেচার কাজ করেন তিনি এমনটাই জেরায় জানিয়েছে শাহরুল।
জয়নগরের তৃণমূল নেতা খুনের পর থেকেই নাসিরের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে জয়নগরের ঘটনার সঙ্গে নাসিরের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তাঁর পরিবার। ইচ্ছে করেই নাসিরকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
সোমবার সকালে ভোর ৫ টা নাগাদ নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর। চার-পাঁচজন দুষ্কৃতী দুটি বাইকে করে এসে পিছন থেকে গুলি করে তাঁকে। এরপর পালানোর সময়ে দুই অভিযুক্তকে ধরে ফেলে স্থানীয় মানুষ। তাদের মধ্যে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় সাহাবুদ্দিন শেখের।
খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার শাহরুলকে গ্রেফতার করে। আর এই শাহরুলের থেকেই সমগ্র কর্মকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসাবে নাসিরের নাম জানতে পারে পুলিশ।
মঙ্গলবার বারুইপুর আদালত থেকে বেরনোর সময়ও শাহরুলের মুখে নাসিরের নাম শোনা যায়। কিন্তু কে এই নাসির? সেই নিয়ে পুলিশের কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিল না। শাহরুলের বয়ান অনুযায়ী, নাসির সহ বাকি অভিযুক্তদের নাকি একাধিকবার ফৌজদারি মামলায় ফাঁসিয়ে ছিলেন জয়নগরের মৃত ওই তৃণমূল নেতা। এমনকী মাঝেমধ্যেই ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হত। এই কারণেই চাপা রাগ থেকেই সইফুদ্দিনের উপর আক্রমণ হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।