পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত মধুসূদনের সঙ্গে অস্ত্র পাচার চক্রের যোগ থাকার প্রমাণ মিলেছে। স্কুটির সিটের নীচে লুকিয়ে অস্ত্র আনতেন এবং নিজের হাতেই তা ডেলিভারি দিতেন তিনি। একেবারে চোখে ধুলো দিয়ে চলছিল ব্যবসা।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 5 August 2025 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খড়দহের (Khardah Weapons Case) রিজেন্ট পার্কের এক অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক রিভলভার ও হাজারের বেশি কার্তুজ ঘিরে শোরগোল! প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রই ফ্যাক্টরি-মেড। অর্থাৎ, এগুলি দেশি নয়, বরং লাইসেন্সধারীরা যে ধরনের অস্ত্র কিনে থাকেন, সেই রকমই। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জমা হল মধুসূদন ঘোষ নামে ছাপোষা ব্যক্তির ফ্ল্যাটে?
সোমবার রাতে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের অন্তর্গত খড়দহ থানার পুলিশ হানা দেয় প্রতিমা মঞ্জিল আবাসনের ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত মধুসূদনের সঙ্গে অস্ত্র পাচার চক্রের যোগ থাকার প্রমাণ মিলেছে। স্কুটির সিটের নীচে লুকিয়ে অস্ত্র আনতেন এবং নিজের হাতেই তা ডেলিভারি দিতেন তিনি। একেবারে চোখে ধুলো দিয়ে চলছিল ব্যবসা।
স্থানীয়দের দাবি, মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন মহিলা যাতায়াত করতেন মধুসূদনের ফ্ল্যাটে। কারও পরিচয় দিতেন কাজের মেয়ে, কেউ রান্নার লোক। তবে পুলিশ সন্দেহ করছে, এই যাতায়াতের আড়ালেই চলত বেআইনি অস্ত্র পাচার। ঘনঘন ওই মহিলাদের বদল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অবশেষে সব ফাঁস হওয়ার পর আবাসিকদের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—মধুসূদনকে আর ওই ফ্ল্যাটে থাকতে দেওয়া হবে না। আবাসনের প্রত্যেকটি গেটের তালা বদল করারও উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশি জেরায় মধুসূদন জানিয়েছেন, সুদে টাকা খাটাতেন তিনি। সেই ব্যবসা থেকেই রোজগার হওয়া অর্থেই অস্ত্র কারবার শুরু করেন। পাশাপাশি, পুরনো মুদ্রা জমানোর শখ এবং কেনাবেচার কাজও করতেন তিনি। পুলিশের ধারণা, বেআইনি ব্যবসা গোপন রাখতে ঘনঘন ঠিকানা বদলাতেন মধুসূদন। সোদপুর, পানিহাটি হয়ে খড়দহে এসে ফ্ল্যাট কেনেন। কোথাও বেশিদিন থাকতেন না।
তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কে বা কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, কার কার কাছে অস্ত্র সরবরাহ হত—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তে নামানো হয়েছে বিশেষ দল।