দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই আমেরিকার মোডার্না কোম্পানি ঘোষণা করেছে, তাদের করোনা ভ্যাকসিন ৯৪ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকরী। বুধবার তার থেকে একধাপ এগিয়ে অপর ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ফাইজার ঘোষণা করল, তৃতীয় তথা চূড়ান্ত দফার পরীক্ষায় তাদের ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই রেগুলেটরের অনুমোদনের জন্য তারা আবেদন করবে।
ফাইজার কোম্পানির দাবি, তাদের ভ্যাকসিন করোনা সংক্রমণ ঠেকায়। তাতে নিরাপত্তার কোনও হানি হয় না। কোম্পানির মুখপাত্র বলেছেন, আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনস্ট্রেশন নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে বিধি মেনে চলে, সেই অনুযায়ী ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। যাঁদের ওপরে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের দেহে কোনও ক্ষতিকারক প্রভাব দেখা যায়নি।
ভারতে অবশ্য ফিজারের ভ্যাকসিন ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ এই ভ্যাকসিন মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখতে হয়। ভারতে যে বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন প্রয়োজন হবে, তা ওই তাপমাত্রায় রাখা সম্ভব নয়।
সোমবার জানা যায়, ভ্যাকসিনের জন্য মোডার্না সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে ভারত। তবে মোডার্নার ভ্যাকসিন এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তৃতীয় দফায় ভ্যাকসিনটি পরীক্ষা করা বাকি আছে।
একটি সূত্রে জানা যায়, ৩০ হাজার লোকের ওপরে কোভিড ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালিয়েছিল মোডার্না। সংস্থার সিইও স্টিফেন বানসেল জানান, ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ফল হয়েছে ইতিবাচক। আমাদের ভ্যাকসিন কোভিড ১৯ প্রতিরোধ করতে পারে। সংক্রমণ খুব বেশি মাত্রায় হলে তাও প্রতিরোধ করতে পারে।
বিশ্বের নানা দেশেই এখন করোনার ভ্যাকসিন নির্মাণের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, করোনার ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই আবিষ্কার করে ফেলেছে তারা।
রাশিয়া বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। রুশ ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি' নিয়ে নানা বিতর্কও চলছে। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তাদের ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি জানাল মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফিজার। আরএনএ জিন প্রযুক্তিতে তৈরি এই টিকার প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলি সফল হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে ভ্যাকসিনের সাফল্য দাবি করার ক্ষেত্রে রাশিয়া তাড়াহুড়ো করেছে বলে আগেই অভিযোগ উঠেছে। ভ্যাকসিনের তথ্য নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ভ্যাকসিনের প্রথম স্তরের ট্রায়ালের পরেই রাশিয়া দাবি করেছে টিকা সার্বিকভাবে প্রয়োগের জন্য তৈরি।