দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরৎ সদনের লন থেকে ডালমিয়া পার্ক, ডুমুরজলা স্টেডিয়াম থেকে হাওড়া কর্পোরেশনের উঠোন—কান পাতলে অনেক কথাই শোনা যাচ্ছিল রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়কে নিয়ে। এর মধ্যেই বিষ্যুদবার সন্ধ্যায় মধ্য হাওড়ার ধর্মতলা লেনে অরূপের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার প্রশান্ত কিশোর।
কী কথা হল দুজনের?
সে ব্যাপারে কেউই মুখ খোলেননি। কিন্তু অরূপ অনুগামীরা আশা করছেন দাদাকে ফের বড় দায়িত্ব দেওয়া হবে। তেমনই বৈঠকের উদ্দেশ্য বিধেয় নিয়ে সন্দিহান ও কৌতূহলী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী তখন থেকেই অরূপ রায় দিদি ঘনিষ্ঠ। কিন্তু গত একুশে জুলাইয়ের পর সাংগঠনিক রদবদলে অরূপকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় আনা হয় উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লকে।
হাওড়া তৃণমূলে অরূপের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। অরূপকে সভাপতি পদ থেকে সরানোর পর আড়াআড়ি বিভাজন স্পষ্ট হয়। দুই গোষ্ঠীর মিছিলে সম্প্রতি হইহই পড়ে গিয়েছিল সদর হাওড়ায়। অনেকের মতে, যার মোদ্দা অর্থ হাওড়া তৃণমূল ভারসাম্য হারিয়েছে। আগে জেলা জুড়ে অরূপ রায় ছিলেন দলের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। এখন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির জেলার কর্মীদের এই বোঝাতে ব্যস্ত যে অরূপবাবু সাইড লাইন হয়ে গিয়েছেন। এই অবস্থায় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সময় সুযোগ মতো ফোঁস করছেন। ছ’মাসও বাকি নেই বিধানসভা ভোটের। তার আগে দলের মধ্যেই এই আকচাআকচি জেলায় ভাল বার্তা দিচ্ছে না বলেই মনে করছেন দলীয় নেতৃত্ব।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অরূপবাবু কি অন্য কিছু ভাবছেন?
এ ব্যাপারে মন্ত্রী মশাই নিজে বা তাঁর ঘনিষ্ঠরা কিছু না বললেও বিজেপি নেতৃত্ব উচ্ছ্বাস গোপন করছেন না। বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলাই নন্দী বাগান এলাকার এক তাবড় গেরুয়া নেতা অনুগামীদের নিয়ে কচুরি আর, চাটনি আর সোনপাপড়ি সহযোগে জলযোগ সারছিলেন। সেখানেই তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর ক্যালেন্ডার পাল্টে যাবে। একুশ সাল পড়লেই দেখবে কী হয়।
প্রশান্ত কিশোরের মিটিং নিয়ে সিপিএম জেলা সম্পাদক বিপ্লব মজুমদার বলেন, “মাঝখানে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার থলে হাতে বামেদের কিনতে বেরিয়েছিলেন। ব্যর্থ হয়ে এবার নিজের লোককে সামলাতে নেমেছেন। আসলে তৃণমূল পার্টিটাই সুতোর উপর ঝুলছে”।
শুধু হাওড়া কেন, দলের মধ্যে এহেন রেষারেষি বহু জেলাতেই দেখা যাচ্ছে। পাশের জেলা হুগলিতে জেলা কমিটি গঠন করতে গিয়েই বারবার বাধা পেতে হচ্ছে দলকে। বৃহস্পতিবার যখন হুগলির জেলা কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখনই হঠাৎ তা নির্দেশ দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ কম নেই।
তবে বিষ্যুদবারের বৈঠকের পর নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তা হল, পিকে বা টিম পিকেই তা হলে কি কোন্দল থামাতে নেমেছেন? ভোটের আগে এই আকচাআকচি তিনি থামাতে পারবেন তো!