দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বাজারের উপর যে মন্দার মেঘ জমতে শুরু করেছে সেই ইঙ্গিত গত কয়েক মাস ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। এ বার নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার কোনও রাখঢাক না করে জানিয়ে দিলেন, "তীব্র নগদ সমস্যায় পড়েছে ভারতীয় অর্থনীতি। গত সত্তর বছরে এতো বড় সংকটে পড়েনি সরকার"।
তাঁর কথায়, “বাজার এমনই আন্দোলিত হয়ে রয়েছে যে কেউ কাউকেই বিশ্বাস করছে না। আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এমন নয় এটা শুধু সরকার ও বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে হয়েছে। প্রাইভেট সেক্টরেও একে অপরকে কোনও রকম ধার দিতে চাইছে না”।
রাজীব কুমারের মতে, এ হেন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের দুটি পথ রয়েছে। এক, সরকারকে এমন কিছু পদক্ষেপ করতে হবে যাতে বাজার চাঙ্গা হয়। দুই, যে কোনও ভাবেই হোক বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে উদ্বেগ ও আশঙ্কা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর কথায়, ইতিবাচক যে সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের কথা ভাবনাচিন্তা করছে। ইতিমধ্যে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে।
https://twitter.com/ANI/status/1164731493626912768?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1164731493626912768&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.ndtv.com%2Fbusiness%2Fgdp-growth-liquidity-situation-unprecedented-situation-for-government-in-70-years-says-niti-aayog-vi-2089153
অতীতে মনমোহন সিংহ জমানায় ২০০৮ সালে মন্দার গ্রাসে পড়েছিল ভারতীয় অর্থনীতি। সরকারের গুচ্ছ পদক্ষেপের জেরে সে যাত্রায় কোনওক্রমে উদ্ধার পেয়েছিল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে মোদী জমানায় ধারাবাহিক ভাবেই অর্থনীতির ছবিটা খারাপ। প্রথমে নোটবন্দির ধাক্কায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে। বাজারে নগদ কমে গিয়েছে। সব থেকে সঙ্কটে পড়েছে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। তার পর পরই পণ্য পরিষেবা কর ব্যবস্থা চালু হওয়ায় বহু ব্যবসায়ীর মাথায় হাত পড়ে। এখন নতুন করে নগদের সমস্যায় আক্রান্ত অর্থনীতি।
সরকারের পরিসংখ্যান থেকেই জানা যাচ্ছে, শিল্পে উৎপাদন অনেকটাই কমে গিয়েছে। এ বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে গড় জাতীয় উৎপাদনও কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৮ শতাংশ। গাড়ি বিক্রি কমেছে প্রায় তিরিশ শতাংশ। একটি সমীক্ষার দাবি, শুধু গাড়ি শিল্পেই দশ লক্ষ কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। এমনকী জনপ্রিয় বিস্কুট কোম্পানি পার্লেও ব্যবসা বাঁচাতে দশ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা জানিয়েছে।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে রাজীব কুমার জানিয়েছেন, বাজারে নগদের যোগান বাড়াতে রিজার্ভ এরই মধ্যে চার বার রেপো রেট কমিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে বলা হয়েছে, ঋণের উপর সুদের হার কমিয়ে এর সুবিধা যেন তারা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। সেই সঙ্গে নন ব্যাঙ্কিং ফাইনান্সিয়াল কোম্পানি গুলিতে নগদের যোগান বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে সাহায্যের হাত বাড়াতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও খুব শিগগির আরও কিছু ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করতে পারে সরকার।