দিনে রাস্তায়, রাতে আইসিডিএস কেন্দ্রে – এ ভাবেই এক বছর কাটছে এক কন্যাশ্রীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: এ এক কন্যাশ্রীর কাহিনি। কাহিনি তার জীবনসংগ্রাম নিয়ে। কাহিনি না বলে ঘটনা বলাই ভাল। আর পাঁচজন কন্যাশ্রীর থেকে নবম শ্রেণীর ছাত্রী প্রেমা ওঁরাওয়ের লড়াইটা কেন আলাদা সেকথাই বলছি। তাদের থাকার একটি ঘর ছিল যেটি এক বছর
শেষ আপডেট: 30 December 2019 09:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: এ এক কন্যাশ্রীর কাহিনি। কাহিনি তার জীবনসংগ্রাম নিয়ে। কাহিনি না বলে ঘটনা বলাই ভাল। আর পাঁচজন কন্যাশ্রীর থেকে নবম শ্রেণীর ছাত্রী প্রেমা ওঁরাওয়ের লড়াইটা কেন আলাদা সেকথাই বলছি। তাদের থাকার একটি ঘর ছিল যেটি এক বছর আগে আগুনে পুড়ে গেছে। নতুন করে ঘর তৈরি করার সামর্থ তার পরিবারের নেই। সেই কারণে মা ও ছয় ভাইবোন নিয়ে গ্রামের আইসিডিএস কেন্দ্রে মাথা গুঁজে দিন কাটাচ্ছে প্রেমা।
আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকের তুরতুরিখণ্ড গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা প্রেমা। এখন সে থাকে কাইজালি বস্তির একটি আইসিডিএস কেন্দ্রে। এখানে দিনের বেলায় কাজের সময় যখন শিশুরা আসে সপরিবারে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে হয় প্রেমাকে। খোলা আকাশের নীচে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করা ছাড়া তাদের আর অন্য কোনও উপায় থাকে না।
বাকি সময়টাও যে খুব ভাল ভাবে তারা থাকতে পারে তা নয়। এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই। এখানে নেই পানীয় জলের কোনও ব্যাবস্থা। পাথুরে এলাকা। আইসিডিএস কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গোটা গ্রামের জন্য একটি মাত্র নলকূপ। সেখান থেকেই রোজ জল টেনে আনতে হয় গ্রামের লোকজনকে। প্রেমাদেরও তাই করতে হয়।

প্রেমার কথায়, “আইডিএস কেন্দ্রে কাজ শুরুর আগেই ঘরের সব কাজ আমাদের শেষ করতে হয়। ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করতে পারলে সেই কাজ আর হয়ে ওঠে না। কাজ শুরু হয়ে গেলে তখন আর এই কেন্দ্রে আমরা ঢুকতে পারি না। আমরা সকলে তখন আশপাশে ঘোরাঘুরি করি। কেন্দ্রের কাজ শেষ হলে তখন আবার ফিরে আসি।”
নানা ধরনের সরকারি প্রকল্প রয়েছে। প্রেমারা আদিবাসী হওয়ায় তাদের জন্য আলাদা প্রকল্প রয়েছে। জনপ্রতিনিধির অভাব নেই। প্রশ্ন হল তা হলে এক বছরেও কেন নিজের ঘর ফিরে পেল না এই আদিবাসী পরিবার।
তুরতুরিখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অজয় ওঁরাও বলেন, “অনেক চেষ্টা করে মেয়েটির পরিবারের নামে গ্রামীণ আবাস যোজনায় একটি ঘর অনুমোদন করিয়েছি। কিন্তু সেই ঘরের টাকা পেতে জুতোর শুকতলা ক্ষয়ে যাচ্ছে। ঘর হয়ে যাবে-হয়ে যাবে বলা হচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই আর হচ্ছে না। ঘর তৈরি করা অবশ্য ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা বলেন, “আমি অবশ্যই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। কন্যাশ্রী ওই বালিকার পরিবার যাতে তাড়াতাড়ি ঘর পায় তার ব্যাবস্থা করা যায় কি না আমি দেখছি।”