চলতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল পর্যটন মরশুম। কিন্তু পাহাড়ে টানা বৃষ্টি, হড়পা বান ও ভূমিধসের আতঙ্কে বহু বুকিং বাতিল হয়। অনেকে এলেও কাটছাঁট করেছেন ভ্রমণসূচি।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 October 2025 09:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারী বর্ষণ, ভূমিধস- বিপর্যয়ের ধাক্কা পেরিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন শিল্প (North Bengal Tourism)। উৎসবের মরশুমের শেষভাগে এসে ফের ভিড় জমতে শুরু করেছে দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং, ডুয়ার্স ও সিকিমের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে। পাহাড়ের পথে ফিরছে পর্যটকদের (Tourists) কোলাহল।
চলতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল পর্যটন মরশুম। কিন্তু পাহাড়ে টানা বৃষ্টি, হড়পা বান ও ভূমিধসের আতঙ্কে বহু বুকিং বাতিল হয়। অনেকে এলেও কাটছাঁট করেছেন ভ্রমণসূচি। আবার পুজোর সময় কলকাতা (Kolkata) ও আশপাশে বৃষ্টির জেরে শহরের অনেকেই বেরোতে পারেননি, ফলে উত্তরবঙ্গের পর্যটনেও তার প্রভাব পড়ে।
তবে কয়েকদিনে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় পাহাড় ও সমতলের দিকে ফিরছে পর্যটকদের আগ্রহ। দার্জিলিং, কালিম্পং, লাটাগুড়ি, ও সিকিমের গ্যাংটক, লাচুং, ইউমথাং, গুরুদোংমার, সেভেন সিস্টার্স ফল্সের মতো জায়গায় এখন থেকেই ডিসেম্বরের বুকিং চলছে। শীতের মরশুমে রুম বুকিংয়ের খোঁজও বেড়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের কয়েকশো হোটেল ও হোমস্টে ইতিমধ্যেই বুকিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ইকো ট্যুরিজম কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে পর্যটকদের ভিড় থাকবে। ডিসেম্বরের শুরুতেই আরও বেশি পর্যটক পাহাড়মুখী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যেভাবে ভিন রাজ্যের পর্যটকরা বুকিংয়ের জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তাতে শীতের ছুটিতে পাহাড়ে ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সিকিমের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। ভূমিধসের কারণে বহুদিন তাদের ব্যবসা থমকে ছিল। সেখানে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৭২৫টি ট্র্যাভেল এজেন্সি ও ৩০ হাজারের বেশি গাড়ি পর্যটকদের জন্য কাজ করছে। হোটেলগুলিতে প্রায় ৩৮ হাজার শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। দুর্গাপুজোয় বুকিং না পেলেও এখন ধীরে ধীরে ভরে উঠছে হোটেল ও ট্যুর প্যাকেজের তালিকা।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, দুর্যোগের ধাক্কা কাটিয়ে আবার প্রাণ ফিরছে পাহাড়ি পর্যটনে। উত্তরের পাহাড়-সমতল থেকে সিকিম- সব জায়গাতেই এখন নতুন করে জেগে উঠছে ভ্রমণ শিল্প, আর সেই সঙ্গে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন পর্যটনকর্মীরা।
দুর্গাপুজো কাটতে না কাটতেই উত্তরবঙ্গে বিপর্যয় (North Bengal Disaster) নেমে আসে। পাহাড়ে ধস, বন্যা পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয় অন্তত ৪০ জনের। আটকে পড়েন বহু পর্যটক, নিখোঁজ অনেকে। এখনও তাঁদের মধ্যে কারও কারও খোঁজ মেলেনি। বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে চলে তিস্তা, জলঢাকা-সহ প্রায় সমস্ত নদী। ভেঙে পড়েছিল দুধিয়া ব্রিজ সহ আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু। বর্তমানে সেগুলি মেরামতির কাজ চলছে। তবে পাহাড় ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে, এই চিত্র দেখে খুশি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটকরাও।