দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ মিনিটের মতো সময় বরাদ্দ হয়েছিল তাঁর জন্য। আর তাতেই রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে ঝলসে উঠতে চাইলেন হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। হিন্দি, বাংলা মিলিয়ে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান লকেট।
এদিন অভিনেত্রী সাংসদ বলেন, "পশ্চিমবাংলায় মাৎস্যন্যায় চলছে। রেশনের চাল চুরি করছে তৃণমূল, বদলি করা হচ্ছে খাদ্যসচিবকে। করোনায় মৃত্যুর তথ্য গোপন করছেন মুখ্যমন্ত্রী, সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসচিবকে!"
তা ছাড়াও রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা.নিয়েও পার্লামেন্টের বক্তৃতায় অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ। পাঁচ হাসাপাতালে বেড না পেয়ে ইছাপুরের তরুণ শুভ্রজিত চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর কথাও সংসদে তোলেন লকেট।
তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার এতটাই নিকৃষ্ট মানসিকতার যে, কেন্দ্রীয় সরকারের পিপিই কিটের রঙ গেরুয়া বলে তা ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষোভের কথাও তুলে ধরেন লকেট।
কিন্তু সংসদে এসব বলে লাভ কী?
পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদ মানে দেশের আইনসভা। সারা দেশের বিভিন্ন দলের সাংসদরা রয়েছেন। তাঁদের সামনে রাজ্য সরকারের স্বরূপ তুলে ধরার লক্ষ্যেই হয়তো লকেট রাজ্যের ইস্যু তুলে ধরেছেন।
প্রসঙ্গত, রেশনের চাল চুরির অভিযোগ নিয়ে কম তোলপাড় হয়নি রাজ্যে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় পর্যন্ত টুইট করে বলেছিলেন, "এখনই এই অনিয়ম বন্ধ না হলে রেশন কেলেঙ্কারি অতীতের সমস্ত দুর্নীতিকে ছাপিয়ে যাবে।" পরে খাদ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে সরিয়ে দেয় নবান্ন। যদিও বিরোধীদের প্রশ্ন, চাল ইস্যুতে যদি খাদ্যসচিব বদল হয় তাহলে খাদ্যমন্ত্রী চেয়ারে থাকেন কী করে? স্বাস্থ্য সচিব বিবেক কুমারের বদলির কথাও তোলেন লকেট।
যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, কোভিড পরিস্থিতিতে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার যে কাজ করেছে তা গোটা দেশে নজির। বিনামূল্যে রেশন থেকে অ্যাডভান্স সামাজিক ভাতা অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার-- সবই আগে করে দেখিয়েছে বাংলা। শাসকদলের আরও বক্তব্য, লকেটদের কথা বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে না বলেই দিল্লিতে গিয়ে ফুলঝুরি ছোটাচ্ছে।