দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: কোভিড উপসর্গ রয়েছে ছত্রধর মাহাতোর। সেই কারণে সোমবার শালবনীর কোবরা সেন্টারে জাতীয় তদন্ত এজেন্সি তথা এনআইএ গোয়েন্দাদের ডাকে হাজিরা দিতে গেলেন না সদ্য তৃণমূলের রাজ্য কমিটিতে জায়গা পাওয়া একদা জনসাধারণের কমিটির নেতা।
জানা গিয়েছে, ছত্রধর মাহাতোর জ্বর, সর্দির মতো উপসর্গ রয়েছে। তাঁর আরটিপিসিআর টেস্ট হয়েছে। কিন্তু সোমবার দুপুর দু'টো পর্যন্ত সেই টেস্টের রিপোর্ট আসেনি। তবে এনআইএ গোয়েন্দাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন ছত্রধর মাহাতোর আইনজীবী কৌশিক সিনহা।
একুশে জুলাইয়ের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সাংগঠনিক রদবদল করেছিলেন তাতে ছত্রধরকে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। ঠিক তার পরেই জোড়া মামলায় এনআইএ তদন্ত শুরু হয়। ছত্রধরের অভিযোগ ছিল, তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলেই কেন্দ্রীয় সরকার ১০ বছরের পুরনো মামলা খুঁচিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
যদিও সেই সময়েই তিনি জানিয়ে ছিলেন, কোভিডের কারণে তিনি কলকাতায় হাজিরা দিতে আসতে পারবেন না। এনআইএ-এর তরফে বলা হয়, তারা জঙ্গলমহলে ক্যাম্প করে ছত্রধরকে.জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এর মধ্যে কয়েকপ্রস্থ জেরা করা হয়েছে এই আদিবাসী নেতাকে।
কাঁটাপাহাড়ি বিস্ফোরণ মামলায় ১০ বছর জেলে ছিলেন তিনি। সেই মামলায় খালাস হলেও ঘাটশিলার অন্য একটি মামলায় বন্দি থাকতে হয়েছিল তাঁকে। কাকতালীয় হল, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি হারতেই ঘাটশিলা মামলা থেকে ছাড় পেয়ে যান ছত্রধর।
লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলে শূন্য পেয়েছে তৃণমূল। অনেকের মতে, সেই মাটি পুনরুদ্ধারে ছত্রধরকেই একুশের বিধানসভায় ব্যবহার করতে চায় শাসকদল। এবার.সেই ছত্রধরকে নিয়েও করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগে শাসকদল। আপাতত বাড়িতেই রয়েছেন বাম আমলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রশাসনকে নাস্তানাবুদ করে দেওয়া পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নেতা।