দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাঁকা বাড়ির খবর পেলেই সক্রিয় হয়ে উঠছে চোরেরা। কখনও তালা ভেঙে কখনও দরজা ভেঙে ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে লুট চালাচ্ছে তারা। বিগত মাস ছয়েক এমন ঘটনায় তটস্থ হয়ে আছে বীজপুরের বাসিন্দারা। চুরি আটকাতে ওসি বদল করেও লাভ হল না। ফের কাঁচরাপাড়ায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা সামনে এল।
তালা সমেত গোটা দরজা ভেঙে এক গৃহস্থের বাড়িতে হানা দেয় চোরের দল। সর্বস্ব হাতিয়ে বাড়ি ছাড়া হয় তারা। তবে বাড়ির মালিক না থাকায়, কী কী খোয়া গেছে জানা যায়নি এখনও। ঘটনাটি ঘটেছে কাঁচরাপাড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কালিনগর রোডে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মনে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই এলাকাতে বাড়ি ভাড়া করে একাই থাকতেন মনীষা মণ্ডল নামে এক মহিলা। কর্মসূত্রে মনীষাদেবীর স্বামী ও ছেলে বাইরে থাকেন। গতকাল বাড়ি ছিলেন না তিনি। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে কার্যসিদ্ধি করল চোরের দল।
সকালে মনীষাদেবীর বাড়িওয়ালার মেয়ের নজরে প্রথম এই চুরির বিষয়টি নজরে আসে। নিচের ঘরের দরজা ভাঙা ও ঘর এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বীজপুর থানার পুলিশ। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বাড়ির মালিক তনুশ্রী সাহা বলেন, 'আমার ভাড়াটিয়া তালা মেরে গতকাল বাড়িতে আসেননি। সেই বিষয়টাও আমরা জানতাম না। সকালবেলা উঠে জানতে পারি এত কিছু কান্ড, আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।' স্বাভাবিক ভাবেই এই আতঙ্কের রেশ পড়েছে এলাকাবাসীর মধ্যেও।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে উত্তর ২৪ পরগণার প্রশাসনিক বৈঠকে বীজপুরে ব্যাপক চুরির ঘটনার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানান বিধায়ক সুবোধ অধিকারী। পাশাপাশি, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন। সেই অভিযোগের রেশ ধরেই বীজপুর থানার ওসি বদলের অনুরোধ জানান নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক।
তার জেরেই রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয় বীজপুর থানার ওসি সঞ্জয় বিশ্বাসকে। সঞ্জয় ছাড়াও দুই এসআই ও একএএসআইকেও বদলি করা হয়েছিল। নতুন ওসি হিসেব দায়িত্ব নেন জয়প্রকাশ পান্ডে। কিন্তু তাঁর যোগদানের পরেও একাধিক চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। আর তাতেই ফের ওসি বদল হবে কী? প্রশ্ন এলাকার মানুষের মনে।
পুজোর আগেও থেকে এই উপদ্রব বেড়েছে বীজপুর এলাকায়। পুজোর কেনাকাটা করে ফিরে এমনই ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়না সাহা। সেই রেশ যেন কাটছেই না। ভীত এলাকাবাসী।