
শেষ আপডেট: 28 November 2022 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০-২২ সালের ডিএলএড কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র ফাঁস (D el ed Question Leak) হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রবল চিন্তায় পর্ষদ। সামনেই টেট পরীক্ষা (TET Exam)। বহু জট ও জটিলতার পরে এই টেট পরীক্ষার দিন ঘোষণা হয়েছে ১১ ডিসেম্বর। নিয়মকানুন-সহ সমস্ত গাইডলাইনও দিয়ে দিয়েছে পর্ষদ। এর পরে যদি আজকের মতো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা টেটের দিনেও ঘটে, তাহলে আর লজ্জার শেষ থাকবে না বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।
এদিন দুপুরে অরিন্দম খাঁড়া নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে কিছু স্ক্রিনশট পোস্ট করেন হোয়াটস্অ্যাপ থেকে। তাতে দেখা যায়, বেলা ১০:৪৭ মিনিটে একগোছা প্রশ্নপত্র দেখা যাচ্ছে। সেগুলিই এদিনের পরীক্ষারই প্রশ্ন বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেলা ১২টায়। পরীক্ষা চলে দুপুর ২টো পর্যন্ত। অর্থাৎ পরীক্ষা শেষ হওয়া তো দূরের কথা, শুরুর আগেই সেইসব প্রশ্ন ভাইরাল হয়েছে হোয়াটস্অ্যাপে!
তথ্য বলছে, গোটা রাজ্যে মোট ১৬০টা পরীক্ষা কেন্দ্রে এই পরীক্ষা হচ্ছে। কখন, কোন কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন এভাবে ফাঁস হল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে বিষয়টি যে মোটেই হাল্কা ভাবে নেওয়া হচ্ছে না, তা নিশ্চিত করেছেন পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল।
তবে টেট নিয়ে দুশ্চিন্তা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছেস ১১ ডিসেম্বর টেট পরীক্ষার জন্য যেসব কেন্দ্র নির্বাচন করা হয়েছে, পরীক্ষার দিন সেইসব এলাকায় বজায় থাকবে ১৪৪ ধারা। শুধু তাই নয়, পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবু আতঙ্ক কমছে না।
কারণ সাবধানতার একটা পর্যায়ে পৌঁছনোর পরেও যে পর্ষদের হাত-পা বাঁধা, তা কার্যত স্পষ্ট হয়েছে আজ সভাপতির কথাতেই। তিনি এদিন বলেন, এদিন তিনি বলেন, 'পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু যাঁরা পরীক্ষা নিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ যদি অসৎ হয় তা হলে তো বোর্ড অসহায়। বোর্ডের তো তাঁদের সততা ও নিষ্ঠার উপর বোর্ডকে ভরসা করতে হবে। একজন শিক্ষক যদি প্রশ্ন করে নিজেই লিক করে দেন আমরা কী করতে পারি বলুন তো!'
তিনি আরও বলেন, 'আমি একটা তদন্ত কমিটি গড়ছি। যদি সত্যতা প্রমাণিত হয় তা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বোর্ড আগামী দিনে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা ছাত্র স্বার্থেই নেওয়া হবে। প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে কিনা আমি এভাবে তো বলব না। আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে। তাদের কাছে আমি পেশ করব।'
টেটে সমস্তরকম স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতরের তরফে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে জেলায় ও স্কুলগুলিকে। তাতে বলা হয়েছে—
তবে শত নিয়মকানুন সত্ত্বেও সভাপতির এই কথা অস্বীকার করা যায় না, যে এই পরীক্ষা পদ্ধতি অনেকটাই নির্ভর করে যাঁরা পরীক্ষা নিচ্ছেন তাঁদের নিষ্ঠা ও সততার উপর করে। যাঁরা পরিচালনা করেন তাঁদের মধ্যেই কেউ যদি অসৎ কাজ করেন, তবে তা সামাল দেওয়া মুশকিল। টেট নিয়ে এই দুশ্চিন্তাই ঘনিয়েছে পর্ষদের অন্দরে।
'যাঁরা পরীক্ষা নিচ্ছেন, তাঁরা অসৎ হলে বোর্ড অসহায়!' প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দাবি পর্ষদ সভাপতির