
শেষ আপডেট: 13 May 2022 03:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহরমপুরের নিহত ছাত্রী সুতপার খুনের (Sutapa Murder) তদন্তে নেমে পুলিশ আগেই জানতে পেরেছিল, ঘাতক 'প্রেমিক' সুশান্ত অনেকদিন ধরেই উত্ত্যক্ত করত সুতপাকে। নানারকম হুমকি দিত। গত সপ্তাহে সুতপার বাবা স্বাধীন চৌধুরী তদন্তকারীদের কাছে আফশোসও করেন, কেন তিনি আগেই পুলিশকে একথা জানাননি।
তবে আজ, একসপ্তাহের মাথায় বয়ান বদল করতেন তিনি। জানালেন, সুশান্তর এই হুমকি দেওয়া নিয়ে আগেও এক বার তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গতকাল, বৃহস্পতিবার বহরমপুর পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকদের এমনটাই জানিয়েছেন স্বাধীন চৌধুরী। তিনি এ কথা ভুলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। এবং একইসঙ্গে জানান, পুলিশের কাছে গেলেও এফআইআর হয়নি তখন।
গত ২ মার্চ বহরমপুরের রাস্তায় সুতপাকে কুপিয়ে খুন (Sutapa Murder) করা হয়। ধরা পড়ে সুশান্ত চৌধুরী। সে দাবি করে, বহু বছর ধরেই সুতপার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর। সম্প্রতি সে সম্পর্ক ভাঙার পরেই প্রতিহিংসার বশে প্রেমিকাকে খুন করে সে। এর পর সুতপার মা জানান, মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত সুশান্ত, হুমকি দিত তাঁকেও। সুতপার বাবা স্বাধীন জানান, সুশান্তর উৎপাত থেকে বাঁচতে অনেকবার তাকে ব্লক করে, ফোনের সিমও বদলেছিলেন সুতপা। তিনি আক্ষেপ করেন, 'তখন যে কেন গেলাম না পুলিশের কাছে!'
তবে বৃহস্পতিবার তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে স্বাধীন জানান, ২০১৭ সালে পুলিশের কাছে গিয়ে সুশান্তের বিরুদ্ধে সুতপাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ জানিয়ে এসেছিলেন তিনি। যদিও সেই অভিযোগ এফআইআর আকারে দায়ের করা হয়নি।
এই তথ্য তিনি কেন এতদিন বলেননি! স্বাধীন জানান, এতদিন আগের কথা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। মনে পড়তেই বলেছেন পুলিশকে। তবে তখন পুলিশ সুশান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে কিছু করেছিল কিনা, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন। স্বাধীনের আফশোস, ‘ওই সময় যদি আর একটু গুরুত্ব দিতাম, তা হলে হয়তো আজ আমার মেয়ে বেঁচে থাকত।’
অন্যদিকে, ধৃত সুশান্তকে জেরা করা চলছেই। গতকালই সন্ধেয় মালদার ইংরেজবাজার থানায় নিয়ে এসে তাঁকে জেরা করে পুলিশ। সুতপাকে খুন করতে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র কোথা থেকে কিনেছিল সুশান্ত, তা জানতে চায় পুলিশ। স্থানীয় বাজারের একটি দোকানের কথা জানাও যায়। দোকানদারের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।
সুশান্ত পুলিশকে জানিয়েছে, একটি মন্দিরে গিয়ে সে আর সুতপা বিয়ে করেছিল। সে কথারও সত্যতা যাচাই করে দেখছে পুলিশ।