দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: কলেজ শিক্ষক অরূপ চট্টরাজ খুনের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সহ দু’জনকে গ্রেফতার করল পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। ধৃত অজয় আম্বানি অরূপবাবুর স্ত্রী পাপড়ির প্রেমিক বলে জানা গেছে।
গত ১৭ই জনুয়ারি শহরের রবীন্দ্রপল্লী এলাকায় নিজের বাড়িতে খুন হন অরূপবাবু। পুরুলিয়ার নিস্তারিণী মহিলা মহাবিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়াতেন তিনি। প্রতিদিনের মতো ওইদিনও রাতের খাওয়া সেরে দোতলায় নিজের ঘরে চলে গিয়েছিলেন। ঘরেই লুকিয়ে ছিল আততায়ী। অরূপবাবু ঘরে ঢুকতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। দোতলা থেকে অরূপবাবুর চিৎকার শুনে উপরে ছুটে যান তাঁর মা লীলা চট্টরাজ। কিন্তু ছেলেকে আততায়ীর হাত থেকে ছাড়াতে না পেরে নীচে চলে আসেন। হাতিয়ার হিসেবে একটা টর্চ নিয়ে যখন ফের উপরে ওঠেন, ততক্ষণে অরূপবাবুকে গলায় মাফলার জড়িয়ে খুন করে ছাদের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেছে খুনি।
তাঁর মা লীলাদেবী জানান, ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল আততায়ী। তারপরেই তিনি নীচে নেমে এসেছিলাম টর্চ নিতে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করে রবিবার রাতে অজয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার আগেই অরূপবাবুর স্ত্রী পাপড়িকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জেরায় পাপড়ি খুনের ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অজয় ছিল পাপড়ির প্রাক্তন প্রেমিক। পুরুলিয়া জে কে কলেজে পড়ার সময় তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পড়া শেষ করে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে নিজেদের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিল অজয়। আড়াই বছর আগে ফেসবুকে মাধ্যমে আবার যোগাযোগ হয় প্রাক্তন প্রেমিক প্রেমিকার। গত বছরের অক্টোবর মাসে ফের পুরুলিয়া ফিরে আসে অজয়। শহরের রাঁচি রোডে একটি বাড়ি ভাড়া নেয়। তারপর সেই বাড়িতে প্রায়ই যেতো অরূপবাবুর স্ত্রী পাপড়ি।
পুলিশের দাবি, ১৭ তারিখ রাতে রবীন্দ্রপল্লীর বাড়ির দোতলার ছাদে অজয়কে উঠতে সাহায্য করেছি তার প্রেমিকা পাপড়ি। এরপর অরূপবাবু দোতলায় গেলে মাফলার দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করে পালিয়ে যায়। তখন একতলায় পাপড়ি উপস্থিত থাকলেও ওপরে গিয়ে খুনিকে বাধা দেওয়ার কোনও চেষ্টাই করেনি। উল্টে শাশুড়ি লীলা যখন বাধা দেওয়ার জন্যে ওপরে যান তখন শাশুড়িকে উপরে যেতে বারণ করেছিল। তদন্তে এসব উঠে আসার পর থেকেই স্ত্রীর ওপর সন্দেহ বারে পুলিশের। গতকাল রাতে দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পর খুনের কথা স্বীকার করে দু’জন। সোমবার ধৃতদের আদালতে তোলা হচ্ছে।