দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সাত সকালে দামোদর নদের ধারে শ্যুটিং করতে গিয়ে ধুন্ধুমার। বুধবার সকালে কয়েকজন তরুণ-তরুণী শ্যুটিং করতে যান দামোদর নদের ধারে চৈত্রপুর গ্রামে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই দলের সদস্যরা রাস্তা আটকে শ্যুটিং করছিলেন। রাস্তার উপরেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখেন তাঁরা। স্থানীয় এক গ্রামবাসী সবজি নিয়ে বাঁধের রাস্তা দিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রাস্তায় এমন ভাবে মোটরবাইক দাঁড় করানো ছিল, তিনি যেতে পারছিলেন না। তখন তিনি রাস্তা থেকে গাড়িগুলি সরিয়ে দিতে বলেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই দলের সদস্যরা। তাঁরা সবজি বিক্রেতাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। গ্রামের বাসিন্দা রাজকুমার মণ্ডল ও সুব্রত পাঁজা বলেন, ‘‘গ্রামে এসে ছবি তুলতেই পারেন ওঁরা। তা নিয়ে কারও কিছু বলার নেই। কিন্তু একজন সবজি নিয়ে যেতে পারছিলেন না বলে ওঁদের মোটরবাইক সরিয়ে নিতে বলেছিলেন। তাতেই ওঁরা মারধর করতে শুরু করে।’’
এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চৈত্রপুর এলাকায়। মারধরের পর অভিযুক্ত দুই যুবক তাদের এক তরুণী সঙ্গীকে নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে গেলেও উত্তেজিত গ্রামবাসী বাকিদের ধরে ফেলে। শ্যুটিং করতে আসা এক যুবক, এক যুবতী ও এক বয়স্ক মহিলাকে গ্রামবাসীরা স্থানীয় একটি ক্লাবঘরে আটকে রেখে বর্ধমান থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা বেধে দেয়। পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়। গ্রামবাসীরা দাবি করতে থাকে, যে দু'জন যুবক সবজি ব্যবসায়ীকে মারধর করার পর পালিয়ে গেছে তাদের নিয়ে আসতে হবে। তবে বাকি তিনজনকে ছাড়া হবে। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। এরপরই উত্তেজনা চরমে ওঠে।
পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভের খবর পাওয়ার পরই বর্ধমান থানার আইসি পিন্টু সাহার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী চৈত্রপুর গ্রামে যায়। কোনওমতে সেখানকার পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে এনে সেখান থেকে শ্যুটিং টিমের তিনজনকে উদ্ধার করে পুলিশ। বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ এলাকা থেকে এদিন সকালে একটি তথ্যচিত্রের শ্যুটিংয়ের জন্য তিনজন যুবক ও দুই যুবতী এবং একজন মাঝবয়সী মহিলা চৈত্রপুরে গিয়েছিলেন। তাঁরা বাঁধের উপরের রাস্তা আটকে শ্যুটিং করাতেই এই বিপত্তি।
তবে এই ঘটনায় এখনও থানায় কেউ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেনি।