জলে গেল কয়েক লক্ষ টাকার ফুচকা, আগামীর কথা ভেবে মাথায় হাত পুলিননগরের কারিগরদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: হঠাৎ যে থাবা বসাবে করোনা ভাইরাস, কে জানতো! আর সেই মারণ ভাইরাস রুখতে যে দেশজুড়ে তালা পড়বে সেটাই বা ভেবেছিল কে? তাই নিত্য যেমন তৈরি করেন, সেভাবেই আটা চেলে তাতে সুজি, খাবার সোডা, মিশিয়ে গুলি পাকিয়ে তেলে ভাজার কাজ শেষ
শেষ আপডেট: 20 April 2020 08:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: হঠাৎ যে থাবা বসাবে করোনা ভাইরাস, কে জানতো! আর সেই মারণ ভাইরাস রুখতে যে দেশজুড়ে তালা পড়বে সেটাই বা ভেবেছিল কে? তাই নিত্য যেমন তৈরি করেন, সেভাবেই আটা চেলে তাতে সুজি, খাবার সোডা, মিশিয়ে গুলি পাকিয়ে তেলে ভাজার কাজ শেষ করে ফেলেছিলেন। বাকি ছিল শুধু পেট ফুটো করে টক জল আর আলু-মটর পুরে মুখে ফেলার পালা। সেটা আর হল কই? তাই প্যাকেট বন্দি হয়ে এখন গড়াগড়ি খাচ্ছে লাখ লাখ ফুচকা।
রানাঘাটের পুলিননগর গ্রামের প্রায় দু’শো পরিবারের রুটিরুজি ফুচকা বানানো। কলকাতা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, এই সমস্ত জায়গায় যত ফুচকা বিক্রি হয় তার সিংহভাগই রানাঘাটের এই পুলিননগর গ্রামের কারিগরদের তৈরি। দেশজুড়ে লকডাউন। অত্যাবশকীয় পণ্য ছাড়া বাকি সবকিছুর আদানপ্রদানই বন্ধ। তাই পুলিননগর থেকে ফুচকাও আর যায় না কোনও জায়গায়। হতাশায় কারিগরদের কেউ রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন ফুচকার বস্তা। কেউ ভাসিয়ে দিচ্ছেন নদীতে।

কারিগররা জানাচ্ছেন, বছরভর অর্ডার প্রচুর থাকে। রাস্তার ধারে ফুচকার স্টলগুলিতো রয়েইছে, পাশাপাশি আজকাল বিয়েবাড়ি-সহ অন্য অনুষ্ঠান বাড়িতেও ফুচকা খাওয়ানোর চল। তাই সারাবছরই ফুচকা তৈরির ব্যস্ততা থাকে গোটা মহল্লায়। এ বার যে এমন দুর্দিন আসবে, ভাবতে পারেননি কেউ। তাই কাঁচামাল জোগাড় করে ফুচকা তৈরি জারি ছিল বরাবরের মতোই। করোনার দাপট বাড়তে লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় সেই ফুচকা এখন পড়ে রয়েছে ঘরেই। গত এক মাসের লকডাউনে কয়েক লক্ষ টাকার ফুচকা নষ্ট হল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা
একই সঙ্গে বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পেটেও টান পড়েছে তাঁদের। ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বলেন, ‘‘এক মাস কাজ বন্ধ। রেশনে পাওয়া দু’কেজি চাল আর এক কিলো আটার উপর ভরসা করেই কাটছে দিন। আগামীতে কী হবে, জানি না। কতদিন এভাবে চলবে তাও বুঝতে পারছি না।’’
একটি পরিবারের বধূ আয়না বিশ্বাস বলেন, ‘‘অনেক দূরে দূরে যায় আমাদের তৈরি ফুচকা। কিন্তু আমরা সবাই দিন আনা দিন খাওয়া। পুঁজি হিসেবে যেটুকু ছিল, এই ক’দিন চালাতেই সব শেষ হয়ে গেল। সামনের দিনগুলির কথা আর ভাবতে পারছি না।’’
বর্তমানে এলাকার কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দেওয়া খাবার এবং রেশনের দু’কিলো চাল আর আটাতে চলছে। কিন্তু কতদিন? ভাবনায় গোটা পুলিননগর।