
শেষ আপডেট: 3 September 2020 08:36
তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে বসেই কীভাবে আয় করা যায় তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছিলাম। ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখতে দেখতে হঠাৎ করেই সামনে আসে বায়ো ফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ভিডিও। আমার স্বামী সুমনও ব্যাপারটা নিয়ে আগ্রহী হন। তারপরেই দুজনে মিলে নদিয়ার শান্তিপুরে চলে যাই। ওখানে হাতে কলমে এই মাছ চাষের পাঠ নেই। আমার স্বামী বেসরকারি চাকরি নিয়ে ব্যস্ত। গত আটমাস ধরে শ্বশুর-শাশুড়ির সাহায্য নিয়ে আমি এই চাষ করছি।’’ পায়েলের দাবি, যেহেতু সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ হয়, তাই এই মাছের স্বাদও খুব ভাল ও স্বাস্থ্যকর।
তিনি জানান, অন্যান্য মাছ চাষের থেকে এখানে মাছচাষের পদ্ধতি সামান্য আলাদা। প্রমাণ মাপের একটি বড় চৌবাচ্চায় ভূগর্ভস্থ জল ভরতে হয় প্রথমে। তারপরে রাসায়নিক দিয়ে সেই জলের অমলত্ব ও ক্ষার ঠিক করতে হয়। এবার ওই জলে বিভিন্ন রকমের মাছের পোনা ছাড়তে হয়। যেহেতু অল্প জলে প্রচুর সংখ্যক মাছ থাকে, তাই ওই জলে নিয়মিত যন্ত্রের সাহায্যে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়। তবেই মাছ বেঁচে থাকে ও বেড়ে ওঠে। পাশাপাশি কয়েক ঘণ্টা অন্তর অন্তর খাবার দিতে হয় মাছগুলিকে।
নিয়মিত খাবার ও অক্সিজেন পেয়ে মাত্র দু মাসের মধ্যেই এক একটি চারা মাছ পাঁচ গ্রাম থেকে আশি বা একশো গ্রাম ওজনের হয়ে ওঠে। তারপর তা বাজারে বিক্রির পালা। একজন বধূর এমন উদ্যোগ দেখে এগিয়ে এসেছে ব্লক প্রশাসনও। সরকারি প্রকল্পের আওতায় এনে পায়েলকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ভাঙড় (২) বিডিও কৌশিক কুমার মাইতি। বধূদের স্বনির্ভর করতে যে সরকারি সাবসিডি লোন রয়েছে, তার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজনে আরও অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধাও তাঁকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিডিও।