
শেষ আপডেট: 8 July 2020 07:18
অপারেশন হওয়া পা টিকে ট্র্যাকশন দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। রোগীর ভাই শেখ রাজু বাইরে থেকে ট্র্যাকশন দেওয়ার সরঞ্জাম কিনে আনার পর ওয়ার্ডের আয়া মানা মহন্ত তা লাগিয়ে দেন। এই কাজ করে দেওয়ার পরেই মানা রোগীর বাড়ির লোকের কাছ থেকে ২০০ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। কিন্তু হতদরিদ্র ওই পরিবারের সদস্যরা টাকা দিতে পারেননি। এই নিয়ে শুরু হয় তর্কাতর্কি। শেষে রোগীর পরিজনরা একশো টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু একশো টাকায় সন্তুষ্ট না হয়ে ওই আয়া রোগীর অপারেশন হওয়া পা থেকে টেনে হিঁচড়ে ট্র্যাকশন খুলে দেয় বলে অভিযোগ। যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকেন রোগী। তাতেও অবশ্য কোনও হেলদোল হয়নি ওই মহিলার। এরপর রোগীর পরিজনরা নিজেরাই কোনও রকমে তা ফের বেধে দেন। রোগীর ভাই শেখ রাজু ২৫ জুন এই ঘটনা নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৬ তারিখ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শেখ আনোয়ারকে ছুটি দেওয়া হয়।
শেখ আনোয়ারের ভাই শেখ রাজু বলেন, ‘‘দাদা দিনমজুরি করেন। আর আমার একটা ছোট সাইকেল সারাইয়ের দোকান আছে। গরীব বলেই সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলাম। সামান্য যে টাকা ছিল তা দিয়ে ট্র্যাকশন দেওয়ার জিনিস কিনে আর টাকা ছিল না। তাই আয়া ২০০ টাকা চাওয়ায় দিতে পারিনি। তখনই রাগে ওই আয়া দাদার পায়ের ট্র্যাকশন টেনে খুলে দেয়। সরকারি হাসপাতালে এই রকম হলে আমরা কোথায় যাব?’’
হাসপাতাল সুপারের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ করার পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রোগীর পরিজনদের কাছে একটি ভিডিও রয়েছে, যাতে দেখা যায় ওই রোগীর পা থেকে কীভাবে ট্র্যাকশন টেনে খুলে দিচ্ছেন ওই আয়া। শুধু ট্র্যাকশন খুলে দেওয়াই নয়, অভিযুক্ত আয়া রোগীর প্রিয়জনদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার এবং তাঁদের গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা অভিযুক্ত আয়াকে সাসপেন্ড করেছি।’’
মঙ্গলবার অভিযুক্ত আয়া মানা সামন্ত হাসপাতালে আসেন ক্ষমা চাইতে। তবে তাঁর সঙ্গে কোনও আধিকারিকের দেখা হয়নি। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে মানা বলেন, ‘‘কাজ করে বকশিশ হিসেবে টাকা চেয়েছিলাম। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেছে সেটা ভুল হয়ে গেছে। আমি ক্ষমা চেয়ে কাজে ফিরতে চাই।’’