নকিবউদ্দিন গাজি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : একদিকে রোগীদের সেবা করছেন রাত-দিনের হিসেব ভুলে। অন্যদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের খিদেও মেটাচ্ছেন কলকাতার সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারবাবু ও নার্সরা।
কলকাতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে মৌসুনি দ্বীপ। সে দ্বীপে প্রতিদিন খাটলে তবেই প্রতিদিনের রোজগার। লকডাউনের জেরে কর্মহীনতার সর্বনাশ ঘনিয়েছে এখানেও। তাই পেটে ভাত নেই অনেকেরই। এঁদেরই কথা ভেবে কলকাতার একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স গেছিলেন মৌসুনি দ্বীপে। এখানকার বাসিন্দাদের কয়েকদিনের রসদ পৌঁছে দিয়ে এলেন তাঁরা।
সারাদিন হাসপাতালে উপচে ভরা ভিড় সামলাচ্ছেন। করোনার শঙ্কা মাথায় নিয়ে দিনরাত এক করে সেবা করে যাচ্ছেন রোগীদের। তারই মধ্যে সময় করে বুধবার সকালে প্রত্যন্ত সুন্দরবনের মৌসুনি দ্বীপে পৌঁছন ডাক্তার ও নার্সদের দলটি। একেবারে নিজেদের উদ্যোগে এলাকার অসহায় মানুষদের হাতে তুলে দিলেন খাবার। করোনা সতর্কতায় বিলি করলেন মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
করোনা মোকাবিলায় একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন তাঁরা। সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে দ্বীপের মানুষদের করোনা সম্পর্কে সচেতন করলেন তাঁরা। বোঝালেন করোনার উপসর্গও। সাইকোলজিস্ট মৌসুমী মুখার্জি বলেন, সরকারি ডাক্তার-নার্সরা বরাবর সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা দেন। এই মহামারীর সময় অসহায় মানুষের পাশে একটু অন্যভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলাম আমরা। তাতে এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মানুইষগুলির যদি একটু সুরাহা হয়।
ডেপুটি নার্সিং সুপার মিঠু সেন বলেন, মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের চিকিৎসা করি আমরা। আর লকডাউনের ফলে একেবারে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মানুষ যাঁদের রুটিরুজিতে টান পড়েছে, তাঁদের পাশে একটু দাঁড়াব না আমরা? তাঁদের হাতে সামান্য কিছু খাবার পৌঁছে দিলাম আমরা। একই সঙ্গে করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনও করলাম।’’