দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ঘর থেকে উদ্ধার কলেজ শিক্ষকের রক্তাক্ত মৃতদেহ। পলাতক স্ত্রী। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে বর্ধমানের কৃষ্ণপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত অধ্যাপকের নাম মহম্মদ আকবর হোসেনুর রহমান (৪০)।
খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। কলেজ শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁর পলাতক স্ত্রীর খোঁজ চালাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ আকবর হোসেনুর রহমান বর্ধমানের উদয়চাঁদ মহিলা কলেজের ভূগোলের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি বীরভূম জেলার মাড়গ্রাম থানার একডালায়। চাকরির জন্য বর্ধমানের কৃষ্ণপুর এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে সস্ত্রীক থাকতেন।
ছেলের মৃতর খবর পেয়েই এদিন বর্ধমানে চলে আসেন ওই কলেজ শিক্ষকের বাবা মুজিবর রহমান। তিনি জানান, গত জুলাই মাসে হোসেনুর রহমানের বিয়ে হয় সুহানা পারভিনের সঙ্গে। এটি তাঁর ছেলের দ্বিতীয় বিয়ে। তিনি বলেন, ‘‘আমার বৌমা আমাকে ফোন করে এদিন বলে হোসেনুর খুব অসুস্থ পড়েছে। আমাকে তাড়াতাড়ি বর্ধমানে চলে আসতে বলে। এরপর থেকেই বৌমার ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। কৃষ্ণপুরের বাড়িতে পৌছে দেখি ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা রয়েছে। তারই মধ্যে পুলিশ চলে আসে। পুলিশের সঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখতে পাই ঘরের মেঝেতে হোসেনুরের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। তার মাথার পিছনের দিকে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।’’ পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কীভাবে ছেলের মৃত্যু হল এবং কেনই তাঁকে ফেলে রেখে তাঁর বৌমা গা ঢাকা দিল তার সবটাই রহস্যে মোড়া বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মইবুল কাজি জানান, এটি একটি পরিকল্পিত খুনের ঘটনা বলেই তাঁরা মনে করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই খুনের ঘটনায় কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর যোগসাজস রয়েছে বলেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অধ্যাপকের স্ত্রী সন্দেহের তালিকায় রয়েছে বলে পুলিশের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে।