দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জামালপুরে বালি বোঝাই ট্রাক উল্টে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিপূরণের অর্থ তুলে দেওয়া হল স্বজনহারাদের হাতে। শুক্রবার মৃতদের জন্য দু'লক্ষ টাকা করে ও আহতকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হল। জেলা শাসকের মিটিং হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট সাড়ে ছ'লক্ষ টাকা পরিবারের হাতে তুলে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক মহম্মদ এনাউর রহমান, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধারা ও পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জি।
বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুর থানার জ্যোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েতের মুইদিপুর এলাকায় রাস্তার ধারের একটি বাড়িতে ধাক্কা মেরে উল্টে যায় বালি বোঝাই একটি লরি। মৃত্যু হয় মা ছেলে ও মেয়ের। তাঁদের নাম সন্ধ্যা বাউরি (৩০), রিঙ্কু বাউরি (১৪) ও রাহুল বাউরি (১২)। জখম হয়েছে সন্ধ্যা বাউরির স্বামী প্রশান্ত বাউরি।
মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই মুইদিপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপরেও জনরোষ আছড়ে পড়ে। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। কয়েকজন পুলিশ কর্মী জখম হন। পরে এলাকার বালিখাদানেও গিয়ে পড়ে জনরোষ। বালি খাদানের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোনও রকমে বিক্ষুব্ধ মানুষজনকে হটিয়ে দিয়ে মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মুইদিপুর ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ কয়েকটি বালি খাদান চলছে। সেই সব বালিখাদান থেকে দিনে ও রাতে শ'য়ে শ'য়ে ট্রাক ও লরিতে বালি লোড হয়। ওভারলোড বালির লরি বাঁধের রাস্তা ধরে হুগলির চাঁপাডাঙা হয়ে কলকাতা চলে যায় । বেশ কয়েকদিন ধরে মুইদিপুর এলাকার বাঁধের রাস্তা দিয়ে ওভারলোড বালির লরির যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষজন বালির লরি আটকে রেখে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ যখনই মানুষ প্রতিবাদে সরব হয় তখনই পুলিশ গ্রামে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আটকে রাখা লরি ছাড়িয়ে নিয়ে দায় সারে। এদিন ওভারলোড বালির লরি নিয়ে মদ্যপ চালক বাঁধের রাস্তা ধরে যাচ্ছিল। তখনই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।