দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: ফালাকাটায় গণ বিবাহের অনুষ্ঠান সেরে মালঙ্গি বন বাংলোয় যাওয়ার সময় আচমকা হাসিমারা গুরুদুয়ারাতে ঢুকে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানালেন শিখ ধর্মাবলম্বী মানুষজন।
সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিন তাঁর কর্মসূচি ছিল শিলিগুড়িতে। আজ মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফালাকাটায় আদিবাসীদের এক গণবিবাহের অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি আদিবাসী শিল্পীদের সঙ্গে নাচে পাও মেলান। এই গণবিবাহের অনুষ্ঠানে এদিন ৪৫০ জন যুবক-যুবতীর বিয়ে দেওয়া হয়। নবদম্পতির হাতে এদিন রাজ্য সরকারের তরফে নানা উপহার তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আদিবাসী দম্পতিদের হাতে শাড়ি ও ধুতি-পাঞ্জাবি তুলে দেন।
পাশাপাশি এই গণবিবাহের অনুষ্ঠানেই আবার মুখ্যমন্ত্রী চা-সুন্দরী প্রকল্পের চা-শ্রমিকদেরও আবাসনের ব্যবস্থা করেন। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার ১২টি চা বাগানের ৪৬০০ বেশি শ্রমিকের হাতে চা-সুন্দরী প্রকল্পের বাড়ি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেখান থেকে মালঙ্গি যাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মালঙ্গিতে রাতে থাকার কথা তাঁর। আচমকা মুখ্যমন্ত্রী হাসিমারায় নেমে পড়ায় তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও প্রশাসন হতচকিত হয়ে পড়েন। গুরুদুয়ারাতে খুব বেশি সময় কাটাননি মুখ্যমন্ত্রী। প্রণাম সেরে গুরুদুয়ারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সুবিধে অসুবিধের কথা শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর গুরুদুয়ারা থেকে বেরিয়ে ফের মালঙ্গির দিকে রওনা হন তিনি।
বুধবার বেলা বারোটায় আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে তিন জেলার কর্মিসভা। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার নেতা কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন সেখানে। গত লোকসভা ভোটের ফলে এই তিন জেলাতেই ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। তাই এবার আসন পুনরুদ্ধারের পালা। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন দলের কর্মীরা। দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী জানান, বুধবার এক লক্ষের বেশি মানুষের জমায়েত হবে বলে তাঁরা একরকম নিশ্চিত।