দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: উলেন রায়ের মৃত্যুতে রাজবংশী ভোট ভাগের আশঙ্কা করছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে খবর, রাজবংশীদের ক্ষোভ কমাতে ইতিমধ্যেই দলীয় স্তরে সক্রিয়তা শুরু হয়েছে। উলেন রায়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই তিনি উলেনবাবুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত রাজ্য সরকার ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করে থাকে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যাতে কোনোভাবেই পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে না পারে সেদিকে নজর রেখে শাসক দল এক্ষেত্রেও তলায় তলায় সেরকমই চেষ্টা চালাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের খবর। কারণ বিজেপি ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। একদিকে যেমন তারা উলেন রায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছেন, অন্যদিকে এলাকার মানুষের সেন্টিমেন্টকে মাথায় রেখে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবিতে আদালটের শরণাপন্ন হয়েছেন। আপাতত বিজেপির এই দ্বিমুখী কৌশলে কিছুটা হলেও বেসামাল তৃণমূল।দলের তরফে তাই রাজবংশী নেতৃত্বকে সামনে রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উলেনবাবুর মৃতদেহ এখনও ময়নাতদন্ত না হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে আদালতে। উলেন রায় দিদি শান্তিবালা রায় বলেন, ‘‘আমার ভাই বিজেপি করতেন। আমাদের পাশেও দাঁড়িয়েছে বিজেপি। আমি চাই ভাইয়ের দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত হোক। তাতেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।’’
সোমবার বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানের সময় জখম হন গজলডোবার বাসিন্দা বছর ৫০ এর উলেন রায়। পরে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশের লাঠি ও গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে বিজেপির অভিযোগ। যদিও প্রশাসন তা মানতে নারাজ। মঙ্গলবার উলেন রায়ের দিদি জলপাইগুড়ি আদালতে জানান, সত্য লুকোতে গভীর রাতে তাঁর ভাইয়ের দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই ওইদিন জলপাইগুড়ি আদালত উলেন রায়ের দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, তিনজন চিকিত্সকের উপস্থিতিতে এই ময়নাতদন্ত করতে হবে। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করতে হবে। ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে।
কিন্ত তারপরে সেই আদেশ প্রত্যাহারের আর্জি নিয়ে সরকার পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। সেই মামলার রায় হয়নি এখনও। আইনী বেড়াজালে সপ্তাহ গড়াতে চললেও এখনও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি উলেন রায়ের দেহ।