দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: আক্রান্ত হওয়ার পরেও হারাননি মনের জোর। বন্ধুকবাজকে ধাক্কা মেরে ফেলে কোনও রকমে প্রাণে বাঁচলেন কালনার তৃণমূল নেতা ইনসান মল্লিকে খুনের ঘটনার প্রধান সাক্ষী বাপি মল্লিক। সম্পর্কে ইনসানের ভাই বাপি।
বৃহস্পতিবার রাতে কালনার সহজপুর গ্রাম থেকে দলীয় কর্মসূচি সেরে মোটরবাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বছর ৩০ এর বাপি। বেগপুরের মল্লিকগড়ের ক্যানেল পাড়ে আসতেই মোটরবাইকে আসা তিন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর উপর। মোটরবাইক থেকে মাটিতে পড়ে যান বাপি। এ সময় এক দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে গেলে তাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে সেখান থেকে কোনও মতে পালান তিনি।
দুষ্কৃতীদের কবল থেকে বাঁচতে কাছাকাছি বুলবুলি ফাঁড়িতে গিয়ে তিনি আশ্রয় নেন। সেখানকার পুলিশকর্মীরা বাপিকে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই এখন ভর্তি রয়েছেন তিনি। বেগপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজখাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাপি। এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্কে রয়েছেন তাঁর পরিবার।
মাস তিনেক আগে বাইক চালিয়ে রাতে বাড়ি ফেরার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় কালনা-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ইনসান মল্লিকের। কালনার নারায়ণপুর গ্রামের কাছে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর দুইটি গুলি করে দুষ্কৃতীরা।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইনসানকে প্রথমে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁকে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হুগলির পান্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ বার আক্রান্ত হলেন তাঁর ভাই। যে কিনা আবার দাদার খুনের মামলায় অন্যতম সাক্ষী। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান সাক্ষীকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই তাঁর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।