দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সিধু কানুর মূর্তি উন্মোচন ঘিরে বিতর্ক। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের বিক্ষোভের মুখে শুক্রবার উদ্বোধন স্থগিত হয়ে গেল। উদ্বোধনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা। বিডিও সাথী চক্রবর্তীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন আদিবাসীরা।
পান্ডুয়ার তিন্না দেশবন্ধু এলাকায় সিধু কানুর মূর্তির পুনর্নির্মাণ করা হয় সরকারিভাবে। শুক্রবার ছিল মূর্তির উদ্বোধন। সেখানেই পোস্টার হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। তাঁদের অভিযোগ, সিধু কানুর মূর্তি এখনও অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। তার মধ্যেই কেন সরকারিভাবে উদ্বোধন করা হল এই মূর্তি। প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড হাতে বিডিওর নাম করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি পান্ডুয়ার বিডিও সাথী চক্রবর্তী।
অদিবাসী নেতা খোকন মান্ডি বলেন, ‘‘সরকারিভাবে এই মূর্তিকে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে ঠিকই। তবে এখনও মূর্তির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। তীর-ধনুক বাকি রয়েছে। আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ করে আমরা উদ্বোধন করতে বলে ছিলাম। এতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের অপমান করা হয়েছে। সেই কারণে আমরা ক্ষোভ জানিয়েছি।’’
আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের মুখে পড়ে আপাতত চট দিয়ে ঢাকা দেওয়া হয় মূর্তিটি। ঠিক হয়েছে আগামী ২৪শে জানুয়ারি নতুন করে আবার সিধু কানুর মূর্তির উদ্বোধন করা হবে।
২০১৫ সালে আদিবাসী নেতা সিধু-কানুর মূর্তি বসানো হয়েছিলো তিন্না গ্রামে। গত অগস্ট মাসে দুষ্কৃতীরা সেই মুর্তি ভেঙে দেয়। নতুন করে নির্মাণ করে আজ সেই মুর্তি উদ্বোধন করতে যান রাজ্যের মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত। ছিলেন জেলার একাধিক তৃণমূল নেতা ও প্রশাসনের কর্তারা। কিন্তু বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় আর সে কাজ এগোয়নি।
এই বিক্ষোভ প্রসঙ্গে পাণ্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চম্পা হাজরা বলেন, ‘‘কে বা কারা কী বলছে জানি না। তবে মুর্তির যা কাজ হয়েছে সঠিক ভাবেই হয়েছে। যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমাদের অনেক সদস্য আছেন যাঁরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁরাও যদি বলেন তবে ঠিক করা হবে। হয়তো ওনাদের অন্য কোনও দলের লোকজন মদত দিচ্ছে।’’