দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সকালেই জানা গিয়েছে, জানুয়ারি মাসের গোড়ায় হাওড়ায় বিজেপির একটা মস্ত বড় জনসভা হবে। সেই সভা শেষমেশ রূপান্তরিত হতে পারে যোগদান সভায়। ঠিক যেমন মেদিনীপুরে হয়েছিল।
মঙ্গলবারই বিকেলে দেখা গেল নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গরহাজির রয়েছেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন তিনি গরহাজির ছিলেন তা জানা যায়নি। কারণ, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তার পর থেকে ফোন ধরেননি।
এই দুটো ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কিনা তা প্রতিষ্ঠা করা মুশকিল। হয়তো নিছক কাকতালীয়। কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে এখন যা চলছে, তাতে ‘যেখানে পাবে ছাই’-এর মতো অবস্থা। উড়িয়ে দেখতেই হবে। নইলে খবর মিস হয়ে যেতে পারে।
অনেকে বলেন, শাসক দলে ও সরকারে যে নেতা বা মন্ত্রীরা খুবই পরিশীলিত, নম্র ভাবে কথা বলেন, ঔদ্ধত্য বা অহঙ্কার প্রকাশ কোনওমতেই করেন না এবং টিপিক্যাল রাজনীতিক সুলভ আচরণ করেন না তাঁদের মধ্যে রাজীব অন্যতম। এমনিতে পরিশ্রমী। দৌড়ঝাঁপ করতে পারেন। ইদানীং কালের মধ্যে তাঁর বড় সাফল্য পর্যবেক্ষক হিসাবে থেকে কালিয়াচক বিধানসভার উপনির্বাচনে দলকে জেতানো। লোকসভা নির্বাচনে কালিয়াচকে তৃণমূল বিজেপির তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু জিতিয়ে দেখিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া নদিয়া জেলার পর্যবেক্ষক হিসাবে করিমপুরের উপ নির্বাচনে সাফল্যের নেপথ্যেও তাঁর ভূমিকা ছিল।
কিন্তু রাজীব অনুগামীরা বলেন, তাতে কী হয়েছে। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিতীয় মেয়াদে সেচ মন্ত্রী ছিলেন।উচ্চবর্ণের এক নেতাকে তার পর অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরে পাঠানো হয়েছে। তার পর বন দফতরে।
রাজীব যে যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব বা কাজ পাননি সে কথা সম্প্রতি পর পর কয়েকদিন পরিষ্কার ভাবেই বলেছেন। তার পর তাঁকে ডেকে কথা বলেছেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে প্রশান্ত কিশোর হাজির থাকায় তিনি কিছু অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি। তাঁদের কথায়, দলের নেতা এক জন কর্মী বা নেতাকে ডেকেছেন। সেখানে বাইরের লোক থাকবেন কেন! তার পর গতকাল সোমবার রাজীবের সঙ্গে সেকেন্ড রাউন্ড বৈঠক হয়েছে পার্থবাবুর।
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজীবের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আসেনি তো কী হয়েছে! আপনাদের কানে কানে কিছু বলেছেন? ব্যক্তিগত কারণে অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিশ্চয়ই মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে আগাম জানিয়েছেন।”
সোমবারের বৈঠক নিয়েও রাজীব বাইরে কিছু বলেননি। বুঝিয়েছেন দলের ভিতরে কথা বাইরে বলা শৃঙ্খলাভঙ্গের সামিল। কিন্তু রাজীবের এ ধরনের আচরণের মধ্যেই অনেকে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন। শুভেন্দুও দলের ভিতরের কথা বাইরে কখনও বলেননি। আর হ্যাঁ মন্ত্রিসভার বৈঠকেও গত চার মাস তিনি গরহাজিরই ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সেও দেখা দেননি।