গামছা পরে ধান জমির আগাছা সাফাই করলেন তৃণমূলের বিধায়ক
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : অভ্যেসের কাজ। ভাললাগার কাজ। তাই সামান্য অবসর পেতেই নেমে পড়লেন সেই কাজে। মাটির কাছাকাছি।
সকালে বেড়িয়েছিলেন দলের কাজে। সভা-সমিতি ও অন্য কাজ সেরে বিকেলে বাড়ি ফিরছিলেন রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। বাড়ির
শেষ আপডেট: 3 August 2018 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : অভ্যেসের কাজ। ভাললাগার কাজ। তাই সামান্য অবসর পেতেই নেমে পড়লেন সেই কাজে। মাটির কাছাকাছি।
সকালে বেড়িয়েছিলেন দলের কাজে। সভা-সমিতি ও অন্য কাজ সেরে বিকেলে বাড়ি ফিরছিলেন রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই দেখতে পান স্ত্রী প্রতিমা রায় গ্রামেরই দু’জন মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে ধান খেতে আগাছা নিরানির কাজ করছেন। বাড়ি ফিরেও আর বিশ্রামের পথে হাঁটেননি বিধায়ক। সঙ্গে সঙ্গেই গামছা পরে জমিতে নেমে যান স্ত্রীকে সাহায্য করতে। এরপর প্রায় সন্ধে পর্যন্ত চলে জমিতে আগাছা নিরানির কাজ।
শুক্রবার খগেশ্বরবাবু টেলিফোনে বললেন, “আমরা ছোট থেকে এই সব করেই বড় হয়েছি। এখন অন্যান্য কাজ বেড়েছে। তাই আর সময় পাই না। পরশু বিকেলে অল্প সময় পেলাম। দেখলাম প্রতিমা জমিতে কাজ করছে। তাই প্রতিমাকে সাহায্য করলাম। ভালই লাগল।”
রাজগঞ্জের পাতিলাভাসার আদি বাসিন্দা খগেশ্বরবাবুর পরিবার। কৃষক পরিবারের সন্তান। জমি রয়েছে বেশ কয়েক বিঘে। সেই জমির ধানেই চলে যায় সংসার। একসময় স্কুলে পড়াতেন। এখন অবসর নিয়েছেন। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই খগেশ্বরবাবুর সম্পর্ক এই দলের সঙ্গে। উত্তরবঙ্গের প্রথম তৃণমূল বিধায়কও তিনিই। এলাকার মানুষের পাশে থাকার পুরস্কার পেয়েছিলেন ২০০৯ সালে। রাজগঞ্জে উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি দলের কাজ করতেন। তাই ব্যস্ততা ছিলই। এই ব্যস্ততাই দ্বিগুণ হয়ে যায় দলের বিধায়ক হওয়ার পরে। তাই যে জমির সঙ্গে আবাল্যের সম্পর্ক তার সঙ্গেই বাঁধন ফিকে হতে থাকে।
কিন্তু জমির সবুজের টান যে কমেনি, এখনও যে বর্ষা এলেই ধানের মাঠ ডাক দেয় তাঁকে, বারবারই বলেন সেই কথা। এ দিনও তাই স্ত্রীকে দেখে জমির আবেগ মাঠমুখী করল তাঁকে।
[caption id="attachment_24293" align="alignleft" width="270"]

জাগলুল হায়দর[/caption]
খগেশ্বরবাবু মনে করিয়ে দেন আরও একজনের কথা। তিনি কাঁটাতারের ও পারের বাসিন্দা। আওয়ামি লিগের সাংসদ জাগলুল হায়দার। দেশের মানুষের ভালমন্দের দায় সামলেও নিয়ম করে জমিতে যান তিনি। ফসলের টানে। কখনও ধান কাটতে কাস্তে নিয়ে নেমে পড়েন। কখনও জমি তৈরি করতে উঠে সওয়ার হন ট্র্যাক্টরে। রাজ্যের বা দেশের- দায়িত্ব যেমনই হোক, সাংসদ বা বিধায়ক- পদ যেমনই হোক, শিকড় ভোলার কথাটা যেন মাথাতেই আসে না দু’জনের।