রোগীমৃত্যুতে গাফিলতি ঢাকতে সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা, সমঝোতার কথা স্বীকার মৃতের পরিবার ও প্যাথল্যাব কর্তৃপক্ষের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এন্ডোস্কোপি করার সময়ই রক্তবমি করতে শুরু করেছিলেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ। যে ল্যাবে এই পরীক্ষা হচ্ছিল বেগতিক দেখে তারাই রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল নিজেদের খরচেই। পথেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু ঘটায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে আসা
শেষ আপডেট: 3 February 2020 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এন্ডোস্কোপি করার সময়ই রক্তবমি করতে শুরু করেছিলেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ। যে ল্যাবে এই পরীক্ষা হচ্ছিল বেগতিক দেখে তারাই রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল নিজেদের খরচেই। পথেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু ঘটায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে আসানসোলের নামী একটি প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবের বিরুদ্ধে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই ল্যাবটি সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মৃতের পরিবারকে। টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা মেনে নিয়েছে দুই পক্ষই।
মিহিজামের কুশবেদিয়ার বাসিন্দা ৬৫ বছরের সদানন্দ পাল রবিবার পরিবারের সঙ্গে এসেছিলেন আসানসোল শহরের বার্নপুর রোডে মেডিকেয়ার ইমেজ নামে একটি ল্যাবে এন্ডোস্কোপি করাতে। পরিবারের অভিযোগ, এন্ডোস্কোপি করানোর সময় রক্তবমি করতে শুরু করেন সদানন্দ। তখন তাঁকে কলকাতার একটি নার্সিংহোমে নিজেদের খরচেই পাঠানোর বন্দোবস্ত করে ওই ল্যাব। পথেই অবশ্য মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। দেহ হাতে পাওয়ার পরে ওই প্যাথল্যাবের বাইরে তা রেখে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্যাথল্যাবের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করবে বলে জানিয়ে দেন রোগীর পরিবারের লোকজন। সারারাত তাঁরা দেহ রেখে ধর্না দেন ক্ষতিপূরণের দাবিতে।
সকালে জানা যায়, মৃতের পরিবার দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। আলোচনার পরে সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা দিতে রাজি হয় প্যাথল্যাব কর্তৃপক্ষ। তাদের সমঝোতার নথিও চলে আসে গণমাধ্যমে।

ওই প্যাথল্যাবের অ্যাকাউন্ট্যান্ট পরিমল বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করে নিয়েছেন যে তাঁরা সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছেন তবে গাফিলতির কথা তিনি মানতে চাননি। তিনি বলেন, “সাড়ে ছ’লক্ষ টাকার বিনিময়ে পার্টির সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয়ে গেছে।” কেন তাঁরা টাকা দিলেন? উত্তরে তিনি বলেন, “আমাদের ভুল বোঝাবুঝি বলুন আর যাই বলুন... এখানে হচ্ছিল না, তাই আমরা পিয়ারলেসে নিয়ে যাচ্ছিলাম। নিয়ে যেতে যেতে রাস্তাতেই উনি মারা যান।” কার দোষ, কেনই বা তাঁরা টাকা দিলেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, “কার দোষ সেকথা আমরা বলতে পারব না, আমি তো ডাক্তার নই।” বিনা দোষে টাকা দিলেন? উত্তরে আমতা আমতা করে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে দূষণ রয়েছে, সমস্যা হচ্ছিল, সংস্থাটি বন্ধ হয়ে রয়েছে। সেটি চালু করার জন্য এবং ভবিষ্যতে ঝামেলা এড়ানোর জন্য আমরা এই টাকা দিয়েছি।”
মৃতের ছেলে গণেশ পালও জানিয়েছেন যে ওই সংস্থাটি দু’দিনের মধ্যেই তাঁদের এই টাকা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাঁরা গরিব, তাই এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। তাঁরা যে থানায় আর কোনও অভিযোগ করবেন না, সেই ইঙ্গিতও তিনি দিয়ে রেখেছেন।
সার্বিক ভাবে অভিযোগ উঠেছে, কোনও নিয়ম না মেনে এবং উপযুক্ত পরিকাঠামো ও দক্ষ কর্মী ছাড়াই আসানসোলে বহু প্যাথোলজিক্যাল ল্যাব চলছে। পরিকাঠামোর অভাব থাকায় গত সপ্তাহে রানিগঞ্জ ও দুর্গাপুরে একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোম ও হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর তবে আসানসোলে একাধিক বেসরকারি প্যাথোলজিক্যাল ল্যাব এখনও চলছে বিনা পরিকাঠামোয়। এইসব প্যাথল্যাবের বিরুদ্ধে সরকার কোনও পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ল্যাবের রিপোর্টে নানারকম গরমিল থাকে বলেও অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে।