শেষ আপডেট: 1 January 2020 09:46
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অভিযোগ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (ফায়ার একস্টিংগুইশার) ছিল না দোকানগুলিতে। অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর দিল্লির পরিবেশ আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৮ ডিসেম্বর আলোচনার মাধ্যমে যে পরিকল্পনা হয়েছিল তাও মানতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্বভারতী – অভিযোগ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের।
এইসব কথা উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণ হিসাবে কেন বিশ্বভারতী দশ লক্ষ টাকা দেবে না।
পৌষমেলায় দূষণ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘ দিনের। দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মামলা গড়ায় দিল্লির পরিবেশ আদালত পর্যন্ত। একসময় মনে করা হচ্ছিল যে এবার হয়তো পৌষমেলাই হবে না।
স্টল বুকিং নিয়ে যে অভিযোগ ছিল তা রুখতে অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সিকিউরিটি মানি চাওয়া নিয়েও বিতর্ক বাধে।
১৮৯৪ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন জোড়াসাঁকোয় শয্যাশায়ী, তখন তাঁরই নির্দেশে তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপস্থিতিতে ৭ পৌষ উপাসনা গৃহের উদ্বোধন করেন। সেই উপলক্ষে কাচঘর সংলগ্ন মাঠে বসে এক দিনের মেলা। সেই শুরু পৌষমেলা। তখন ইলেকট্রিক আলো ছিল না। দিনের বেলাতেই সারা হত সমস্ত অনুষ্ঠান।
১৮৯৪ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত এই পৌষমেলা হত একদিনের। ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হওয়ার পর পর, ১৯৬১ সাল অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষ পর্যন্ত মেলা হত দু’দিনের। কলেবর বৃদ্ধি হওয়ায় সেই সময় থেকে মেলা পূর্বপল্লির মাঠে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৬১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মূল মেলা ছিল তিন দিনের। পরে ভাঙা মেলা থাকত আরও বেশ কয়েক দিন। ২০১৬ সালে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে তিনদিনের মেলা শেষ হতেই মাঠ খালি করে দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এ বার সেই মেলায় চারদিনের করা হয়। যদিও তার পরেও দোকান বন্ধ করতে চাননি ব্যবসায়ীরা। এনিয়ে থানা-পুলিশ পর্যন্ত হয়।