দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন শেষে সোমবার বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ফিরছেন ১৬৯ জন ভারতীয় নাগরিক। তাঁরা প্রত্যেকেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। বন্দে ভারত মিশনে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বিমানে ঢাকা থেকে ১৬৯ জন ফিরছেন কলকাতায়।
ভারতের বহু নাগরিক আটকে রয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। যাঁদের অধিকাংশই এই রাজ্যের বাসিন্দা। ঢাকায় স্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন গুরুত্ব অনুযায়ী দেশে ফেরানোর তালিকা নির্দিষ্ট করেছে বলে জানানো হয়েছে বিদেশমন্ত্রকের তরফে।
বাংলাদেশে আটকে থাকা বহু মানুষের আত্মীয়-পরিজনরা গভীর উদ্বিগ্ন। সোমবার কলকাতা বিমানবন্দরে যাঁরা ঢাকা থেকে ফিরবেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৭৩ জন ছাত্র, ১৬ জন প্রবীণ নাগরিক, ৪৫ জন পর্যটক এবং ১৬ জন রোগী, যাঁদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাও রয়েছেন।
ঢাকায় স্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, "শুধু ঢাকা নয়। বাংলাদেশের ১৮টি জেলা থেকে এই ১৬৯ জনকে প্রথম ধাপে কলকাতায় পাঠানো হচ্ছে।" কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর ঢাকা থেকে আসা এই ১৬৯ জনকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হবে। পশ্চিম বর্ধমান, জলপাইগুড়ি, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের ২০টি জেলার বাসিন্দারা রয়েছেন এই দলে।
গত ১৪ মে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের ফেরানো নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর তৈরি হয়। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ বিমানের বন্দোবস্ত করলেও রাজ্য সরকার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ব্যবস্থা করতে পারছে না। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব টুইট করে নবান্নের দিকে আঙুল তোলেন। পাল্টা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমে বলেন, বন্দে ভারত মিশনের দ্বিতীয় দফার সূচিতে পশ্চিমবঙ্গে কোনও বিমান আসার নির্ঘণ্ট কেন্দ্র সরকার দেয়নি। তারপর অবশ্য বরফ গলে। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ব্যবস্থা কী হয়েছে তা দিল্লিকে জানায় নবান্ন।
বন্দে ভারত মিশনের প্রথম দফায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ৬৪টি বিমানে প্রায় ১৫ হাজার ভারতীয়কে দেশে ফেরানো হয়। দ্বিতীয় দফায় নরেন্দ্র মোদী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩০টি দেশ থেকে ১৪৯টি বিমানে প্রায় ৩২ হাজার ভারতীয়কে দেশে ফেরানো হবে। ১৬ মে থেকে দ্বিতীয় দফায় প্রবাসী ভারতীয়দের ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩৭০০ বাংলার মানুষ ফেরার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছে।