দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনাঃ অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালেই পড়ে থেকে করোনা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পরে সেই ঘটনার তদন্তে করতে হাবড়া হাসপাতালে গেল স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল। সেখানে গিয়ে সুপার ও হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে বলে খবর।
শুক্রবার দুপুরে হাবড়া হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য দফতরের দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের উপ স্বাস্থ্য আধিকারিক নিরঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁরা গিয়ে বৃহস্পতিবার যাঁরা হাসপাতালে ছিলেন, সেইসব ডাক্তার, নার্স ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়। কথা বলা হয় হাসপাতালের সুপার বিবেকানন্দ বিশ্বাসের সঙ্গেও।
সূত্রের খবর, হাসপাতালের সুপার বিবেকানন্দ বিশ্বাস প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন তাঁরা। রোগীকে রেফার করে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজে যাতে করা যায় তার জন্য স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আবেদনও করেছেন সুপার।
এদিকে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দলের তরফে উপ স্বাস্থ্য আধিকারিক নিরঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্তের জন্যই এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্য দফতরে তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার হাবড়ার এক করোনা আক্রান্ত মহিলার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে রেফার করা হয় কলকাতার হাসপাতালে। রেফার করার পরেও অ্যাম্বুল্যান্স আসেনি। ফলে হাসপাতালের বাইরেই পড়ে থাকতে হয় মহিলাকে, এমনটাই অভিযোগ করেন তাঁর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের গাফিলতিতেই মৃত্যু হয় ওই রোগীর।
মহিলার পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ওই রোগীকে। আধ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্সের দেখা মেলেনি। বারবার অনেক বলেও কোনও ব্যবস্থা হয়নি। অবশেষে বিকেল ৪টে নাগাদ ওই রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স আসে। কিন্তু ড্রাইভার নাকি পিপিই কিট পরতে আরও ২০ মিনিট লাগিয়ে দেন। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হাসপাতালের বাইরেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার।
পরিবারের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসাতেই মারা গিয়েছেন ওই মহিলা। যদি সঠিক সময়ে অ্যাম্বুল্যান্স আসত, তাহলে ওই মহিলাকে বাঁচানো সম্ভব হত বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এই বিষয়ে তাঁরা স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ করেন। তারপরেই ঘটনার তদন্তে এল স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল।