“না খেয়ে মরতে বসেছি, দিদি আমাদের প্রাণে বাঁচান”: ভিডিওবার্তায় কাতর আর্তি ভিনরাজ্যে আটকে পড়া হলদিবাড়ির শ্রমিকদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীকে জানিয়ে কাজ না হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রাণ বাঁচানোর কাতর আবেদন করলেন কেরলে আটকে পড়া একদল শ্রমিক। তাঁরা হলদিবাড়ি থেকে কেরলে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এখন তাঁরা প্রায় না খেয়ে রয়েছেন। পরিবার নিয়ে উৎকণ্ঠ
শেষ আপডেট: 26 March 2020 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীকে জানিয়ে কাজ না হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রাণ বাঁচানোর কাতর আবেদন করলেন কেরলে আটকে পড়া একদল শ্রমিক। তাঁরা হলদিবাড়ি থেকে কেরলে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এখন তাঁরা প্রায় না খেয়ে রয়েছেন। পরিবার নিয়ে উৎকণ্ঠাও রয়েছে।
আরব সাগরে আসা সামুদ্রিক মাছ লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজ করতে কেরলের কোল্লাম জেলায় গিয়েছিলেন কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি থানার উত্তর দড়িবস গ্রামের বাসিন্দা নরেশচন্দ্র রায়-সহ বেশ কয়েকজন। কেরলে থেকে যা রোজগার তাঁদের হয় তার প্রায় সবটাই তাঁরা গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন সংসার চালানোর জন্য। দেশজুড়ে লকডাউন চলায় এখন তাঁদের কাজ বন্ধ। তাতেই তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।
ভিডিওবার্তায় নরেশচন্দ্র রায় জানিয়েছেন যে তাঁরা আট-ন’জন একসঙ্গে রয়েছেন। লকডাউন হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের কাছে যা টাকা ছিল তা শেষ। তাঁরা কার্যত না খেয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি গতকাল উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি আমাদের জানান ট্রেন আমার হাতে নেই। আগে কেন আসেননি? এখন আমার করার কিছু নেই। গোটা দেশ এভাবে ২১ দিন লক ডাউন হবে এই কথা আমরা যদি আগে জানতে পারতাম তবে অবশ্যই ফিরে আসতাম। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের করজোড়ে আবেদন আমাদের এখান থেকে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করুন। আমাদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করুন।”
https://www.youtube.com/watch?v=GPDlLf2VvpA&feature=youtu.be
উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই ঘোষণা হচ্ছিল যে ট্রেন বন্ধ হয়ে যাবে। এঁদের ফিরে আসা উচিত ছিল কিন্তু এঁরা ফিরে আসেননি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠিও দিয়েছেন। থাকার জায়গা তো ওঁদের আছেই। আশা করা যায় নিশ্চয়ই খাবার ব্যবস্থা হবে।”
অন্য রাজ্যে দিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই আঠেরোটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, বাংলার শ্রমিকরা আটকে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ফিরে আসারও কোনও উপায় নেই। তাই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে তাঁরা যাতে নিরাপদ আশ্রয় পান, পর্যাপ্ত খাবার এবং প্রয়োজন মতো ওষুধ পান সেই ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী ওই চিঠিতে আরও লিখেছেন, সব রাজ্যেই বাংলার শ্রমিকরা ৫০-১০০ জনের গ্রুপ করে থাকেন। স্থানীয় প্রশাসন চাইলেই তাঁদের চিহ্নিত করা সম্ভব। তারপর তাঁদের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
হাওড়ার ডোমজুড়ের বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন দিল্লি, মুম্বইতে। সোনার গয়না বা জরি শিল্পের সঙ্গে হাওড়ার বহু শ্রমিক রয়েছেন মুম্বই, থানের মতো জায়গায়। তেমনই মুর্শিদাবাদ, মালদা, পূর্ব বর্ধমান, হুগলির বহু নির্মাণ শ্রমিক আটকে রয়েছেন পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, কেরলের মতো রাজ্যে।