দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর দাদাই ছিলেন সংসারের একমাত্র রোজগেরে। বাবা কর্ক্ষমতা হারিয়েছেন অনেক দিন আগেই। এই অবস্থায় তিনি সরকারি চাকরির সুযোগ নিতে চান বলে জানালেন শহিদ রাজেশ ওরাংয়ের বোন শকুন্তলা ওরাং। বছর কুড়ির শকুন্তলা এখনও লেখাপড়া করছেন। বর্তমানে তিনি ঝাড়খণ্ডের রানীশ্বরে ময়ূরাক্ষী গ্রামীণ কলেজে বাংলা অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
গত সোমবার রাতে লাদাখে ভারত-চিন সংঘর্ষে শহিদ হন ২০ জন সেনা জওয়ান। তার মধ্যে রয়েছেন বীরভূমের মহম্মদবাজারের বেলগরিয়া গ্রামের বাসিন্দা জওয়ান রাজের ওঁরাং। সেই ঘটনার দু’দিনের মাথায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, প্রত্যেক শহিদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। সেই মতো চাকরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন শকুন্তলা। তাঁর কথায়, “আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। দাদার টাকাতেই আমাদের সংসার চলত। এখন দাদা আর নেই। তাই তাঁর দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। সরকার থেকে কোনও চাকরি দেওয়া হলে আমি সেই চাকরি করতে চাই।”
তাঁদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে একাধিক অপারেশন হয় রাজেশের বাবার। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও গলব্লাডারে স্টোন। তারপর থেকে তিনি আর ভারী কাজ করতে পারেন না। আগে তিনি চাষ করতেন। থাকতেন মাটির বাড়িতে। ২০১৫ সালে রাজেশ চাকরি পাওয়ার পরে মাটির বাড়ির পাশে পাকা বাড়ি তৈরি করেন। তিনিই সংসারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন। এখন তিনি নেই। তাই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শকুন্তলা চাইছেন যত দ্রুত সম্ভব কাজে যোগ দিতে।
রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূমের জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু ও জেলা পুলিশসুপার শ্যাম সিং শুক্রবার সকালে দেখা করেন শকুন্তলার সঙ্গে। তাঁর হাতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো পাঁচ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। শহিদ রাজেশ ওরাংয়ের পরিবারের লোকেদের তিনি দেখা করতে বলেছেন। কী ভাবে সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে হবে সেই পদ্ধতি তিনি বলে দেবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই পরিবারের কে চাকরি করতে চান সে ব্যাপারে আবেদনপত্র সংগ্রহ করার জন্য নবান্ন থেকে নির্দেশিকা এসেছে। এখন সেই আবেদনপত্র যাতে শহিদের পরিবারের কেউ সংগ্রহ করতে পারেন সে জন্য সরকারি ভাবে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা।