দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনকে সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে পশ্চিম বর্ধমানে একটি মদের দোকানে ডাকাতি হল বৃহস্পতিবার রাতে। দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে তিনটি দোকানে চুরি হওয়ায় শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা।
আসানসোলের কুলটিতে বৃহস্পতিবার রাতে দুঃসাহসিক দুষ্কৃতী হানার ঘটনা ঘটেছে। কুলটি থানার ইস্কো বাইপাসে একটি হোটেল কাম বারের অফ শপে হানা দেয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের একটি দল। তাদের প্রত্যেকের মুখ মাস্কে ঢাকা ছিল। একটি মোটর বাইকে করে তারা এই দোকানে হানা দেয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে কাউন্টার খুলিয়ে ক্যাশ বাক্সে থাকা ৪০ হাজার টাকা তারা লুঠ করে। সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিদেশি মদ ভর্তি বাক্সও নিয়ে পালায় তারা।
ইস্কো বাইপাস এমনিতে ফাঁকাই থাকে। লকডাউনের জন্য আজকাল আরও বেশিই ফাঁকা থাকছে। সেটাকেই সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা হানা দেয় বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কুলটি থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা।
এই হোটেল কাম বার ও অফ শপটি হিরাপুর ও কুলটি থানার একেবারে সীমানা এলাকায়। সেই কারণে দুই থানার মধ্যে প্রথমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল যে ওই দোকানটি প্রকৃত পক্ষে কোন থানা এলাকার মধ্যে পড়ে। শেষ পর্যন্ত কুলটি থানার পুলিশ এলাকায় যায়।
প্রশ্ন উঠেছে লক ডাউনের সময় যেখানে আসানসোলের সব দোকান ও বাজার দুপুর একটার পরে বন্ধ রাখার কথা সেখানে কী ভাবে সন্ধ্যার পরেও এই অফ শপটি খোলা ছিল। ডাকাতির তদন্তের পাশাপাশি তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দোকানটি এক বিজেপি নেত্রীর বলে জানা গেছে।
লকডাউনের সুযোগ নিয়ে দোকানের তালা ভেঙে কয়েক লক্ষ টাকার চুরির ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরেও। তবে আগের রাতে। বুনিয়াদপুর পুরসভা এলাকায় তিনটি দোকানে চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গেছে আগের রাতে দু’টি কম্পিউটারের দোকান এবং একটি কাপড়ের দোকানে চুরি হয়। তার পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এমনিতেই লকডাউন। তার উপর এ রকম চুরির ঘটনার পর থেকে ব্যবসায়ী মহল এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ রাতে ঠিকমতো নজরদারি না করায় চুরি বেড়ে গেছে। পুরসভার তিন নম্বার ওয়ার্ডের একটি কম্পিউটারের দোকান এবং একটি কাপড়ের দোকান ছাড়াও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরাইঘাট নলপুকুর এলাকার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে বেশ কয়েক লক্ষ টাকার সামগ্রী চুরি হয়েছে।