দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ বিজেপির যুব মোর্চার নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাওড়া ও কলকাতা। খণ্ডযুদ্ধ বাধে বিজেপি কর্মী ও পুলিশের মধ্যে। হাওড়া ময়দান এলাকায় বিজেপির এক কর্মীর কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি পিস্তল। এই ঘটনায় ওই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও পরে রাজ্য বিজেপির তরফে জানানো হয়, পিস্তলটি বিজেপির এক নেতার দেহরক্ষীর। পিস্তলটির লাইসেন্সও রয়েছে। কিন্তু পুলিশ সূত্রে খবর, পিস্তলটি বেআইনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিজেপি মিছিলে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি বেআইনি। তার লাইসেন্স এ রাজ্যের নয়, জম্মু-কাশ্মীরের। অস্ত্রটির ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর হল ২৮৫৩৯১০০১৪৮৬৩৫২০১৮। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে এই পিস্তলের লাইসেন্স জম্মু কাশ্মীরের রাজৌরি জেলা থেকে দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। অর্থাৎ এই পিস্তলটি শুধুমাত্র রাজৌরি জেলাতেই ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তার বাইরে এই পিস্তল ব্যবহার করলে তা বেআইনি।
অবশ্য বিজেপির তরফে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। এদিন বিকেলে বিজেপির রাজ্য দফতর মুরলীধর সেন স্ট্রিটে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানেই প্রথমে রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি তথা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, যে কর্মীর কাছ থেকে পিস্তল উদ্ধার হয়েছে উনি বিজেপির যুব মোর্চার নেতা প্রিয়াঙ্কুর পাণ্ডের দেহরক্ষী। ওনার বন্দুক কেড়ে নিয়েছে পুলিশ।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা আগেই এই বিষয়টা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি। উনি বিজেপি নেতার দেহরক্ষী। তাই তাঁর কাছে বন্দুক ছিল। তাঁর নাম বলবিন্দর সিং। ওই বন্দুকের লাইসেন্স রয়েছে।” উলটে পুলিশই বিজেপি কর্মীদের প্রাণে মারার জন্য হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্য সভাপতি।
যদিও পরে ভবানীভবনে সাংবাদিকদের সামনে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কলকাতা থেকে ৮৯ ও হাওড়া থেকে ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এবার পুলিশ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।”
এই পিস্তল উদ্ধারের পরেই অবশ্য বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি একটা রাজনৈতিক দল নয়। বিজেপি হল সন্ত্রাসবাদী দল। ওরা বাংলার শান্তি নষ্ট করতে এসেছে। রাজ্যকে অশান্ত করতে চায় বিজেপি।