দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়াল পুলিশ। চাল-আটা-আলু দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মোবাইল ফোনেও রিচার্জ করে দিলেন ওসি নিজে। বাড়ি থেকে রেশন দোকান দূরে বলে সেখানে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়াক আশ্বাসও দিয়েছেন।
পুরুলিয়া শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীগুরুপল্লিতে বাস করেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। তাঁদের উভয়েরই বয়স ৭০ বছর পেরিয়ে গেছে। তাঁদের নাম লক্ষ্মীকান্ত নন্দী ও আরতি নন্দী। ওই দম্পতির একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে নদিয়া জেলার মাটিআড়ি এলাকায়।
বৃদ্ধ লক্ষ্মীকান্ত নন্দীর বয়স ৭৫ বছর। কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন অনেক দিন আগেই। তবুও বাড়িতে বসে থাকার উপায় নেই। তাঁরা মিষ্টির দোকানে কাজ করেন। লক ডাউনের ফলে সেই কাজও হারিয়েছেন। এখন উপার্জন বলতে বার্ধক্য ভাতা। মাসে ৪০০ টাকা করে দু’জনের মিলিয়ে মোট ৮০০ টাকা।
বয়সের কারণে শরীরে নানা রকম অসুখ বাসা বেঁধেছে। নিকট জন কেউ কাছাকাছি না থাকায় লকডাউনের ফলে তাঁরা ঘোর সমস্যায় পড়েছেন। আপাতত এই দম্পতি রয়েছেন একটি ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে।
লকডাউন শুরু হওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন লক্ষ্মীকান্ত নন্দী। তাঁর স্ত্রী আরতি নন্দী উদ্ভ্রান্ত হয়ে বাড়ির বাইরে গাড়ির খোঁজ করতে শুরু করেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন তাঁকে দেখতে পান পুরুলিয়া সদর থানার ওসি দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। অসুবিধার কথা তাঁকে বলেন আরতি দেবী। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন ওসি। খোঁজ নেন পরিবারে আর কেউ আছেন কিনা। তিনি নিজের ফোন নম্বরটি দিয়ে বলেন, “যদি কোনও সমস্যায় পড়েন তাহলে অবশ্যই জানাবেন।”
সম্প্রতি তাঁকেই ফোন করে পরিবারের দুরবস্থার কথা জানিয়েছিলেন দম্পতি। সঙ্গে সঙ্গে ওসি নিজে চাল, ডাল, আলু ও আটা পৌঁছে দেন তাঁদের বাড়িতে। মোবাইল ফোনে রিচার্জও করে দেন। পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যও করেন। এই পরিবারের রেশন কার্ড আছে কিন্তু রেশন ডিলারের দোকান শহরের অন্য প্রান্তে ভাগাবাঁধ পাড়া এলাকায়, তাঁদের বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। সেকারণেই এই মাসের রেশন তুলতে পারেননি। ওসি অবশ্য আরতী দেবীকে জানিয়েছেন যে রেশন তুলতে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যাবস্থা করে দেবেন।
বাড়ির আশপাশের দু’এক জন এই দম্পতিকে সাহায্য করেন কিন্তু আরতী দেবী বলছেন, “কত দিন আর লোকে এই ভাবে সাহায্য করবেন আর কত দিনই বা এই ভাবে আমাদের চলবে!”
আপতত অবশ্য তাঁদের স্বস্তি মিলছে না কারণ লকডাউন যে এমাসের ৩০ তারিখের আগে শেষ হচ্ছে না সেকথা একরকম স্পষ্টই হয়ে গেছে।