দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালবৈশাখীর দাপটে রবিবার ভেঙে পড়ল আসানসোল পুর নিগমের ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভুঁইয়া পাড়ার পাঁচটা বাড়ি। এর ফলে গৃহহীন হয়ে পড়লেন অন্তত ২৫ জন। সারা রাত তাঁরা কার্যত খোলা আকাশের নীচেই কাটিয়েছেন। লকডাউনের ফলে আগেই এই দরিদ্র পরিবারের রোজগেরেরা কাজ হারিয়েছেন। এখন তাঁরা শুধু গৃহহীন হলেন না সঙ্গে হারালেন সঞ্চিত খাবারও। রেশনে পাওয়া চাল এখন মাটিতে মিশে গেছে। জ্বালানিও নেই। এই অবস্থায় প্রশাসন তাঁদের পাশে না দাঁড়ালে কী করবেন তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না। মাথা গোঁজার ঠাঁই নয় বরং এখন তাঁরা খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন।
এলাকার কাউন্সিলর মির হাসিম বলেন, “এখন লকডাউন চলছে। এই অবস্থায় কোনও রকম সাহায্য করা খুব মুশকিল। ওঁদের তো শুধু বাড়ি ভাঙেনি সঙ্গে থাকা চাল-ডালও এখন মাটির নীচে। আগে আমরা ওঁদের খাবারের কী ব্যবস্থা করতে পারি দেখি। জেলাশাসককে জানাব ওঁদের সমস্যার কথা।”
কালবৈশাখীর দাপটে রবিবার শহরের বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ে গিয়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ঝড়ের সঙ্গে ভয়ঙ্কর শব্দে বাজ পড়তে থাকে। দিনভর তীব্র দহনের পরে বিকেলের শিলাবৃষ্টি অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছিল আসানসসোলে।
বৃষ্টি শুরু হতে আসানসোল উত্তর থানার শেরতলাবের দুই কিশোর মহম্মদ তৌফিক ও মহম্মদ আফরোজ আলম বৃষ্টির জলে স্নান করতে বাড়ি থেকে কিছু দূরে চলে যায়। সেই সময় বাজ পড়লে দু’জনেই অচৈতন্য হয়ে পড়ে। পুলিশ ও এলাকার বাসিন্দারা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যান। মহম্মদ তৌফিককে (১৫) চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। আফরোজকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হয়। তার চিকিৎসা চলছে।