দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইভিএম-এ গণ্ডগোল, তাই ভোট বন্ধ। এমন খবর আকছার শোনা যায়। এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে স্থগিত ভোটগ্রহণ। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটে এমন ঘটনা বাংলা দেখেছে। কিন্তু তৃতীয় দফার ভোটে এক অভিনব কারণে বেশ কিছুক্ষণ ভোট বন্ধ রইল মালদহের মানিকচকে।
কী সেই অভিনব ঘটনা?
মঙ্গলবার সকালেই স্নান সেরে, পেতে চুল আচড়ে মানিকচকের ৭৯ নম্বর বুথে বিজেপি-র এজেন্ট হিসেবে পৌঁছে গিয়েছিলেন বছর ছাব্বিশের গগন সরকার। বেলা পর্যন্ত দিব্যি বসেছিলেন বুথে। কিন্তু বেলা বাড়তেই গগন বুথ ছাড়েন। রিলিভার আসেন তাঁর জায়গায়। ঘণ্টা দেড়েক সেই রিলিভার বুথ সামলান। তারপর ফের ফিরে আসেন গগন। কিন্তু সকালের গগন আর বেলার গগনের মধ্যে যে একটা গগন-পাতাল ফারাক হয়ে গিয়েছে তা দেখেই বুঝতে পারেন প্রিসাইডিং অফিসার থেকে অন্য পার্টির পোলিং এজেন্টরা সকলেই।
মদের গন্ধে তখন ভুরভুর করছে বুথ। পা টলছে গগনের। প্রিসাইডিং অফিসার সিরিয়াল নম্বর ১০৮ বললে, গগন শুনছেন ৫৭২। এমন ‘মাতাল’ এজেন্টের সঙ্গে ভোট করা সম্ভব নয় বলে এক যোগে ভোট বন্ধের দাবি জানান কংগ্রেস, তৃণমূল ও সিপিএমের এজেন্টরা। বাধ্য হয়ে প্রিসাইডিং অফিসার খবর দেন সেক্টর অফিসে। আসেন আধিকারিক। আসে পুলিশও। তারপর গগনকে গ্রেফতার করে মানিকচক থানার পুলিশ। কলার ধরে পুলিশ যখন মদ্যপ বিজেপি এজেন্টকে নিয়ে যাচ্ছে, তখন এক পুলিশ আধিকারিককেও বলতে শোনা যায়, “বাপ রে! কী গন্ধ!”
দু’দিন আগেই কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রকে কুরুচিকর আক্রমণ করেছিলেন নদিয়া জেলার এক বিজেপি নেতা। বলেছিলেন, “মহুয়া দেবী আপনি রাত হলেই রঙিন জল সেবন করেন। এটা কোনও ভারতীয় নারীর শোভা পায় না।” এ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু এ দিন দেখা গেল বিজেপি-র বুথ এজেন্টই এমন মদ খেলেন, যে ভোটই কিছুক্ষণ বন্ধ হয়ে গেল। যদিও এই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেনি গেরুয়া শিবির। দলের জেলা সভাপতি সঞ্জীব মিশ্র বলেন, “সাংবাদিকদের কাছে শুনলাম। খোঁজ নিচ্ছি।”
ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য মদ বিলির অভিযোগ দেশ বা বাংলার রাজনীতিতে নতুন নয়। এমন ঘটনা ঘটে আসছে সেই বাম আমল থেকেই। কিন্তু মাতাল এজেন্টের জন্য বেশ কিছুক্ষণ ভোট বন্ধ হয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে অভিনব ঘটনা বৈকি।