দ্য ওয়াল ব্যুরো: উদ্বাস্তুদের জমির অধিকার সত্ত্ব দেওয়ার ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে নবান্নে একটি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার জমিতে যে উদ্বাস্তুরা রয়েছেন তাঁদের জমির অধিকার সত্ত্ব দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “৪৮-৫০ বছর ধরে উদ্বাস্তু শরণার্থীরা এখানে আছেন। কিন্তু তাঁরা না ঘরকা না ঘাটকা হয়ে পড়ে রয়েছেন। আমরা আগেও কেন্দ্রকে বলেছি। কিন্তু কিছুই হয়নি। উল্টে মাঝে মাঝেই উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদের নোটিস পাঠানো হয়।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের এরকম প্রায় ৯৭৩ একর জমি রয়েছে, যার খোঁজই কেউ রাখে না। সেখানে উদ্বাস্তুরা আছেন। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানে তাঁদের অধিকার সত্ত্ব দেবে।
কেন্দ্রের অধীনে থাকা তিন একর পর্যন্ত জায়গায় উদ্বাস্তুরা থাকলে তাঁদের অধিকার সত্ত্ব দেবে রাজ্য সরকার। তিন একরের বেশি জায়গার ক্ষেত্রে সমীক্ষা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে রাজ্য সরকার রাজ্যের ৯৪টি উদ্বাস্তু কলোনিকে অধিকার সত্ত্ব দিয়েছিল। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের জমিতে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের অধিকার সত্ত্ব দেবে সরকার। যদিও এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, রাজ্য আদৌ এটা করতে পারে কিনা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বেসরকারি ১২০ একর জমি আছে। সেখানেও উদ্বাস্তুরা আছেন। সেই জমির অধিকার সত্ত্বও তাঁদের দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ১১ হাজার ৯৮৬টি পরিবার অধিকার সত্ত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময়ে বলেন, “১২ বছর এক জায়গায় থাকলেই একটা অধিকার জন্মায়। আর এই মানুষগুলি তো সেই ১৯৭১ সাল থেকে আছেন। ৪৮-৫০ বছর হয়ে গেল!”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত বছর ধরে তাঁরা বাংলায় আছেন। কেউ ব্যবসা করেন, কেউ চাকরি করেন, তাঁদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে পড়াশোনা করে, ভোট দেন তাঁরা কিন্তু তাঁদের অধিকার দেওয়ার কথা কেউ ভাবেনি! আমরা সেটা দিচ্ছি।”
এই সিদ্ধান্ত কি আদৌ বাস্তবায়িত হবে? কেন্দ্রীয় সরকার কি তাদের জমিতে ‘দখলদারিকে’ স্বীকৃতি দেবে? এই প্রশ্নে অনেকেই বলছেন, এর মধ্যেই সরকারের রাজনীতি রয়েছে। এমনিতেই এনআরসি ইস্যুতে রাজনীতি সরগরম। জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ নিয়ে তৃণমূল কট্টর বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছে। উল্টোদিকে বিজেপি বলতে শুরু করেছে, সব শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সরকার উদ্বাস্তুদের কাছে বার্তা দিতে চাইল, ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষের অধিকারের পক্ষে তারা। পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন যদি কেন্দ্র বাধাও দেয় বা আইন-আদালত করে, তাহলে সেটাকেও তৃণমূল রাজনৈতিক ভাবে হাতিয়ার করবে। বলবে, মমতা-সরকার চেয়েছিল উদ্বাস্তুরা জমির অধিকার পাক। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর সরকার তাতে বাধা দিচ্ছে।