দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু সরকারি চিকিৎসা পরিকাঠামো যে কোভিডের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয় তা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিল নবান্ন। সেই সঙ্গে মঙ্গলবার রাজ্য সরকার স্পষ্ট ভাবে জানাল, যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির সুযোগ রয়েছে, তারা যেন কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তবে এটা রাজ্য সরকারের নির্দেশ নয়, আবেদন মাত্র।
এ দিন আইএমএ সহ চিকিৎসকদের সাতটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা। তার পর প্রেস কনফারেন্স করে এই বেসরকারি হাসপাতালগুলির উদ্দেশে এই আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শহর কলকাতায় এখনও পর্যন্ত হাতেগোণা কিছু বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেছে। এর মধ্যে অ্যাপোলো এবং এএমআরআই অন্যতম। হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় সঞ্জীবনী নামে একটি হাসপাতালও কোভিডের চিকিৎসা করছে।
মুখ্যসচিব এদিন বলেন, "যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তাঁরা বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা করাতে পারবেন। করোনা আক্রান্ত হলেই যে সরকারি জায়গায় চিকিৎসা করাতে হবে এমন কোনও ব্যাপার নেই।" সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে স্পষ্ট করে মুখ্যসচিব বলেন, "যে বেসরকারি হাসপাতালগুলির সুযোগ রয়েছে তারা যদি আলাদা করে কোভিড চিকিৎসার বন্দোবস্ত করেন তাহলে সেই পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে সরকার কোভিড চিকিৎসার অনুমোদন দেবে।"
মানুষের কাছে যাতে ভুল বার্তা না যায় সে কারণে রাজীব সিনহা আরও ভেঙে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, "এর মানে এই নয় যে, যে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে কেউ চলে গেলে সেখানে তাঁকে ভর্তি নিয়ে নেওয়া হবে।" অর্থাৎ শহরতলির বা মফস্বলের ছোট নার্সিংহোমে জ্বর, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে কেউ যদি ভর্তি হতে যান তা হবে না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারি হাসপাতালগুলিতে কোভিড চিকিৎসার যথাসম্ভব ব্যবস্থা করেছে ঠিকই, কিন্তু যাঁদের সামর্থ্য রয়েছে তাঁদের অনেকেই সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি হতে চাইছেন না। আবার সীমিত সংখ্যক বেসরকারি হাসপাতালে কোভিডের চিকিৎসা হচ্ছে। তাই বেসরকারি হাসপাতালে কোভিডের বেড কম। এই চাহিদার জায়গাটাও পূরণ করতে চাইছে সরকার।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, করোনা আক্রান্ত কারও যদি বাড়িতে আলাদা থাকার জায়গা থাকে, তাহলে তিনি হোম আইসোলেশনে থাকতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "মনে রাখবেন সরকারেরও একটা লিমিট আছে।" তা নিয়ে বিরোধীরা সমালোচনা করলেও কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় একই মর্মে গতকাল রাতে একটি গাইডলাইন দিয়েছে।
এদিন মুখ্যসচিব বলেন, "হোম আইসোলেশনের যে সিদ্ধান্ত আমরা কালকে জানিয়েছিলাম তা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে বলতে চায়, যাঁদের উপসর্গ নেই অথবা যাঁদের সংক্রমণ খুব সামান্য তাঁদেরই হোম আইসোলেশনে রাখার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকও একই গাইডলাইন দিয়েছে। তার মানে এই নয় যে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের কাছে অনেক বেড রয়েছে। আমরা প্রস্তুত আছি।"